বিশ্বের দ্বিতীয় পরাশক্তি দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতার একমাত্র সন্তান তিনি। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একমাত্র কন্যা শি মিংজে। বর্তমানে আমেরিকায় বসবাস করছেন তিনি। এমন তথ্য দিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি ভিকি হার্টজলার। এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্যা ইকোনোমিক টাইমস।
কিন্তু তিনি যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, সে খবর অন্তত দু’বছর পর্যন্ত নির্দিষ্ট স্তরের বাইরে প্রকাশিত হয়নি। চূড়ান্ত গোপনীয়তার মধ্যে ছদ্মনাম ও পরিচয়ে জি সেখানে পড়াশোনা করেন মনস্তত্ব এবং ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে।
জি যে সময় হার্ভার্ডে যান, তখনও তার বাবা চিনের প্রেসিডেন্ট হননি। কিন্তু জিয়ের ঠাকুরদা জি ঝোংজুন ছিলেন চিনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাবশালী নেতা। মাও জে দংয়ের শাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন জি ঝোংজুন। ফলে প্রথম থেকেই হার্ভার্ডে চরম গোপনীয়তা পালন করতে হয়েছে জি-কে।
সব সময়ই তাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করত বিশেষ নিরাপত্তারক্ষীর বাহিনী। বাইরে সাধারণ ছাত্রীর পরিচয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস করলেও নির্দেশ মতো বেশি পড়ুয়ার সঙ্গে তিনি বন্ধুত্ব করতে পারেননি। অবসর সময়ে জি ভালবাসেন বিভিন্ন বিষয়ের উপর বই পড়তে। ফ্যাশনেও আগ্রহ আছে তার।
নব্বইয়ের দশকে জি-এর শৈশবের কিছু ছবি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। তার পর তিনি চলে যান গোপনীয়তার অন্তরালে। সংবাদমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া, কোথাও ছিলেন না তিনি। এখনও যে তাকে বিশেষ প্রকাশ্যে দেখা যায়, সে রকমও নয়। তার সম্বন্ধে তথ্য বা তার ছবি, দুই-ই বিরল।
নিজের জীবন প্রায় নীরবেই কাটাচ্ছেন মিংজে। চীনের কমিউনিস্টি বিপ্লবী নেতাদের বংশধরদের তথাকথিত ‘লাল অভিজাতদের’ তরুণ প্রজন্ম হিসেবে এটি এখনও অস্পষ্ট যে তিনি কোনও দিন প্রকাশ্য জীবনে হাজির হবেন কিনা।
তবে ইতোমধ্যেই মিংজেকে তার বাবার উত্তরসূরি বলা হচ্ছে। পারিবারিক ধারা মেনে তিনিও রাজনীতিতে পা রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু বেশ কিছু মার্কিন ও তাইওয়ানের সংবাদমাধ্যমে আবার উল্টো কথাও উঠে আসছে।
