সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
খেলা শেষ। বাংলাদেশ ২-১ গোলে কিরগিজস্তানকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠল। চাইনিজ তাইপের রেফারি ওয়াংসে শেষ বাঁশি বাজালেন। আর গ্যালারিতে উঠল আনন্দের ঢেউ। স্টেডিয়ামের দর্শক দাঁড়িয়ে গেলেন। একজন দর্শকও মাঠ ছাড়ছিলেন না। বাফুফের টেকনিকেল এন্ড স্ট্র্যাটেজিক ডাইরেক্টর পল থমাস স্মলি গ্যালারির দর্শকের দিকে হাত উঁচিয়ে নানা অঙ্গ ভঙ্গি করলেন আর তাতে সাড়া দিয়ে উল্লাস করছিলেন দর্শক। দর্শকদের মাতিয়ে দিতেই এই অস্ট্রেলিয়ানের এমন চেষ্টা শেষ না হতেই প্রেসবক্সের পাশ দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে যাচ্ছিলেন কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন এবং সানজিদা। দর্শক ভিড় ঠেলে দৌড়ে সানজিদাকে দেখতে এগিয়ে গেলেন। এই সানজিদা গোল করেছেন গোল করিয়েছেন কৃষ্ণাকে দিয়ে। ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় হলেন সানজিদা।
উত্সবমুখর পরিবেশে দেখেছেন ফুটবল দর্শক। বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক (অনূর্ধ্ব—১৯) গোল্ডকাপ ফুটবলে পর পর দুই ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ। কাল ছুটির দিনে বাংলাদেশ এবং কিরগিজস্তানের খেলা দেখতে হাজার দশেক দর্শক এসেছিলেন মাঠে। নারী পুরুষ শিশু সবাই ছিলেন। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের অন্যান্য গ্যালারি প্রায় ফাঁকা থাকলেও আবাহনীর গ্যালারিতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। ভিআইপি গ্যালারিতেও চেয়ার খালি ছিল না। মাঠে বাংলাদেশ এবং কিরগিজস্তানের ফুটবল যুদ্ধ। একদিকে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হবে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হবে। অন্যদিকে প্রতিশোধের নেশা। ২০০৬ সালে দিল্লিতে এএফসি কাপ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলে বাংলাদেশ হেরেছিল ৬ গোলে। সুইনু প্রু, আয়শা, হাসিনা, রওশন আরাদের হারের প্রতিশোধ নিলেন। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠল বাংলাদেশ।
কিরগিজস্তান ভালো দল। তাদের টেকনিক এবং ট্যাকটিস অনেক বেশি উন্নত। বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও কিরগিজস্তানকে কোনো সুযোগই দেয়নি বাংলার মেয়েরা। কিকঅফের সময় বাংলাদেশের আটজন ফুটবলার সেন্টার লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল প্রথম আক্রমণেই কিরগিজস্তানকে উপর ঘরে মিসাইল নিক্ষেপ করবেন। যেমন ভাবনা তেমনই কাজ। মাত্র ৩০ সেকেন্ডে গোল আদায় করে নেয় বাংলাদেশ। কিকঅফ করেই লং বল ফেলেন ডিফেন্ডার আঁখী। সেই বলে কৃষ্ণা পা লাগিয়ে তুলে কিরগিজদের গোল মুখে। গোলকিপার তলনোভা সেটি ধরতে গেলে হাত ফসকে নিচে পড়ে দুই পায়ের ফাঁক গলে বেরিয়ে গেলে বাংলাদেশের রাইট উইঙ্গার সানজিদা দৌড়ে গিয়ে গোল করেন ১-০।
এই গোলের পর বাংলাদেশ আক্রমণের ঝড় তোলে। গ্যালারিতে দর্শকের উল্লাস। যখন তখন আরো বেশি গোল পাবে ম্যাচটা যেন সেই পথে যাচ্ছিল। পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডানদিকে সানজিদা, বামদিকে কৃষ্ণা, মাঝখানে স্বপ্না, মারিয়া, মৌসুমীরা। ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছিল কিরগিজ রক্ষণ। তারপরও গোলপোস্টে দ্বিতীয় গোল হচ্ছিল না। সানজিদার ক্রসের বল মনিকার হেড গোল হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে বদলি খেলতে নেমে মারজিয়া আক্রমণে সুনামি ঝড় তুললেন। মারজিয়া তিনজনকে ডজ দিয়ে বাম পায়ে শট করলেন, বল ক্রসপিসে চুমু খায়। ৬৯ মিনিটে দুইজনকে কাটিয়ে ক্রস ফেলেন। কিরগিজ গোলকিপার ধরতে পারেনি। কৃষ্ণা মাথা ছোঁয়ান বলে ২-০। কাউন্টনার আক্রমণে গোল হজম করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের রূপনা চাকমা বল ধরতে পারেননি বদলি ফুটবলার জাইরান গোল করেন ১-২।
আজকের খেলা ঃ লাওস ও তাজিকিস্তান। রাত ৮টা ৩০, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম।
