স্পোর্টস রিপোর্টার
ফুটবল ম্যাচ তখনো গ্যালারিতে উত্তাপ ছড়ায়নি। তার আগেই সেখানে একদল তরুণ গান বাজিয়ে নেচে চলেছেন। এন্ড্রু কিশোর এবং শাম্মি আক্তারের কণ্ঠে আশির দশকের সেই গান, ‘চলে আমার সাইকেল হাওয়ার বেগে উইরা উইরা/ ঢাকা শহর দেখব আজ দুইজনে ঘুইরা ঘুইরা’।
বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবলে গতকাল বাংলাদেশ ও কিরগিজস্তানের খেলাটির আগে অঞ্জনা এবং ওয়াসিম অভিনীত ‘নান্টু ঘটক’ ছবির এই হিট গানটি বাজাচ্ছিলেন সদরঘাট থেকে আসা কায়েস। গানের তালে তালে নাচছিলেন কায়েসের বন্ধু শিশির। এদের মনমুগ্ধকর উপস্থাপনা উপভোগ করছিলেন গ্যালারিতে বসা হাজারো দর্শক। এদের মধ্যে ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরাও। কায়েস বলছিলেন, ‘এটাই তাদের বিনোদন। ঢাকায় বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। এখানে এত বড় স্টেডিয়ামে এসে একটু আনন্দ করছেন।’ তার মধ্যেই মাঠে ঢুকল বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা। কায়েসরা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক মৌসুমী, মনিকাদের নাম ধরে গ্যালারিতে আওয়াজ তুললেন।
ফুটবলময় এমন পরিবেশে মেতে উঠেছেন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের অনেকের চোখে এ যেন রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা। দারুণ খুশি সাবিনা ইয়াসমিন। মার্কেটিংয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী বললেন, ‘আমি যখনই শুনি মেয়েদের ফুটবল খেলা, ভাবি দেখতে আসব। তখন থেকেই মুখিয়ে ছিলাম কখন আসব মাঠে।’
সাতক্ষীরার মেয়ে সাবিনা। জাতীয় মহিলা দলেও আছেন একজন সাবিনা। তার একই অঞ্চলের হওয়ায় শিক্ষার্থী সাবিনার বাড়তি উচ্ছ্বাস, ‘এমন পরিবেশ পাবো ভাবিনি। আমি ফুটবল খেলা ভালোবাসি। বিশ্বকাপ ফুটবল হলে মিস করি না।’ বাংলা দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদা বলছিলেন তার নামেরও ফুটবলার আছেন।
তিতুমীর কলেজের সুফিয়া কামাল ছাত্রী নিবাস এবং সিরাজ ছাত্রী নিবাসের ১২০ জন শিক্ষার্থী এসেছিলেন কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। আবাহনী গ্যালারিতে গিয়ে উপরে বসা এই শিক্ষার্থীদের নিয়ে এসেছেন হোস্টেল সহকারী সুপার শান্তনা কর্মকার। অনার্স ম্যানেজমেন্ট তৃতীয় বর্ষের জুলিয়া তাসনিম জীবনে প্রথম এলেন এই স্টেডিয়ামে। ঝিনাইদহরে শৈলকুপার মেয়ে জুলিয়া বলছিলেন, ‘মেয়েরা ফুটবলে এগিয়ে যাচ্ছেন আর ছেলেরা যেতে পারেনি। আমার ভালো লাগে। মনে হয় যদি ফুটবল খেলতে পারতাম।’
গ্যালারিতে এসেই আঞ্জুম, শাহনাজ, মোহসীনারা জমিয়ে ফেললেন আড্ডা। ইসলামের ইতিহাসে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাহসিনা অতিথি বললেন, ‘আমিও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রথম এলাম। না এলে দেখতে পারতাম না আমাদের দেশের মেয়েরা ফুটবল খেলছে। এখানে আসার জন্য আমি অনেক বেশি এক্সাইটেড ছিলাম।’
