আইএস-এর খোঁজে বাড়ি বাড়ি

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ২২:১৪

প্রথম পৃষ্ঠার পর

জানিয়েছে, আত্মঘাতী হামলায় জড়িত ছিল দেশের ৯ নাগরিক যাদের মধ্যে একজন নারী।  প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা গতকাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কিছু শ্রীলঙ্কান যুবক আইএসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সমপ্রতি জানা গেছে, দেশে আইএসের ১৪০ সদস্য আছে। যাদের খুঁজে বের করতে প্রতিটি ঘরে তল্লাশি চালানো হবে। নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, হামলায় বিদেশি শক্তির জড়িত থাকার বিষয়টিকে তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার মনে করে, ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত এবং জামিয়াতুল মিলাথু ইব্রাহিম হামলার সঙ্গে জড়িত। তবে এদের সঙ্গে বিদেশি সংযোগ আছে। সিরিসেনা স্বীকার করেছেন, গোয়েন্দারা হামলার তথ্য আগে জানলেও তাকে জানায়নি। এই ব্যর্থতায় প্রতিরক্ষা সচিবের পর পুলিশ প্রধানও পদত্যাগ করেছেন বলে সিরিসেনা জানান। তিনি গোয়েন্দা সংস্থাকে দুর্বল করার জন্য প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। ২০০৯ সালে সমাপ্ত গৃহযুদ্ধের অবসানের পর যুদ্ধাপরাধের মামলায় সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনায় গোয়েন্দা সংস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে বলে মনে করছেন সিরিসেনা।

মূল হোতা নিহত

প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা বলেছেন, কলম্বোর সাংরি লা হোটেলের হামলায় জাহরান হাশিম নিহত হন। সেদিন ঐ হোটেলে তিনিই হামলার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তার সঙ্গে ছিল ইলহাম নামে দ্বিতীয় একজন আত্মঘাতী। সিরিসেনা স্পষ্ট করে বলেননি যে হাশিম হামলায় ঠিক কী ভূমিকা পালন করেছিল। হাশিম শ্রীলঙ্কার কট্টরপন্থি জঙ্গি মুসলিম নেতা। তার তেমন পরিচিতি আগে ছিল না। তবে শ্রীলঙ্কায় বেশকিছু বুদ্ধ মূর্তির মুখ বিকৃত করার ঘটনায় তার কুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। ইউটিউবে তার ফলোয়ারের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ভিডিওতে হাশিম অমুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংস হামলার ডাক দেন। হাশিমের সঙ্গে তার বোনের সর্বশেষ যোগাযোগ হয়েছিল দু’বছর আগে। বিবিসিকে ওই বোন বলেন, তার ভাই যা করেছে, তাতে তিনি স্তম্ভিত। যদিও সে আমার ভাই, আমি কিছুতেই এটা মেনে নিতে পারছি না। ও আর আমার কেউ নয়। গত রবিবার বিভিন্ন গির্জা এবং হোটেলকে টার্গেট করে চালানো হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৫৩ জন বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কার সরকার।

আতঙ্কে মুসলমানরা, খ্রিষ্টানদের প্রার্থনায় বাধা

মুসলিমদের বাড়িতে বসে প্রার্থনা করার আহবান জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। এমনকি মুসলিম নেতারাও সেই আহবানে সাড়া দিয়েছেন। আইএসের জড়িত থাকার অভিযোগে মুসলমানদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও তার নাগরিকদের কোনো প্রার্থনার স্থান কিংবা জনসমাগমস্থলে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অনেক মুসলিম বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে শ্রীলঙ্কার মিডিয়াকে জানিয়েছেন স্থানীয় মুসলিমরা। খ্রিস্টানদের প্রার্থনায়ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কলম্বো কার্ডিনাল ম্যালকম রজনিথ’র আর্চবিশপ জানিয়েছেন, একটি ফাঁস হওয়া গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন, আবারো হামলা হতে পারে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

গোয়েন্দা সংস্থা সতর্ক করেছে, গাড়ি বোমা হামলার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তাই যতদূর সম্ভব বাড়ি থেকে বের না হতে নাগরিকদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে দশ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার বিভিন্ন বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত ৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সন্ধ্যার পর কলম্বোর রাস্তা যেন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার আগেই অফিস শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং সবাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। -বিবিসি ও রয়টার্স