ইলম শব্দটি আরবি। এর শাব্দিক অর্থ হলো— ১) জানা ২) বোঝা ৩) হৃদয়ঙ্গম করা ৪) জ্ঞান। বিখ্যাত আরবি অভিধান ‘আল মু’জামুল ওয়াসীত’ প্রণেতার মতে—‘ইলম বলা হয় কোনো কিছু সম্পর্কে যাবতীয় তত্ত্ব ও তথ্যানুসারে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা।’
মহান আল্লাহ তায়ালা রসুল (সা)-এর কাছে সর্বপ্রথম ওহি প্রেরণ করে বলেন, ‘ইকরা’ অর্থাৎ পড়। এই পড়ার দ্বারাই মানুষের জ্ঞান অর্জিত হয়। জ্ঞান এমন একটি বিষয় যা মানুষকে উচ্চাসনে আসীন করতে পারে। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘বল, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান?’ (সুরা যুমার ৯) আল্লাহ তায়ালা আরো বলেছেন, ‘আর যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে তাদের জন্য রয়েছে উচ্চমর্যাদা।’ (সুরা মুজাদালাহ ১১) জ্ঞান অর্জন করার জন্য করতে হয় অনেক কষ্ট, সাধনা, পরিশ্রম। এই জ্ঞান অর্জন করার নির্দিষ্ট কোনো বয়স নেই। এজন্য বলা হয় ‘দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন কর।’
রসুল (সা) বলেছেন, ‘দিনি জ্ঞান অন্বেষণের জন্য যে পথ চলতে থাকে তার জন্য আল্লাহ তায়ালা বেহেশতের পথ সহজ করে দেন।’ রসুল (সা) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা যার কল্যাণ কামনা করেন, তাকে দিনের সঠিক জ্ঞান দান করেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)। ইলম প্রথমত দুই প্রকার, যথা—১) ইলমুদ দুনিয়া তথা দুনিয়াবি জ্ঞান ২) ইলমুদ দিন তথা দিনি জ্ঞান। এটি আবার দুই প্রকার, যথা—১) ইলমুল মাবাদি তথা যার ওপর ইলমে দিন নির্ভরশীল ২) ইলমুল মাকাসিদ বা ইলমুস শরয়িয়াহ। ইবনু আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত।
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক জন ফকিহ (আলিমে দিন) শয়তানের কাছে হাজার আবিদ (ইবাদাতকারী) থেকেও বেশি ভীতিকর। (তিরমিযি ও ইবনু মাজাহ)। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত দিনি জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দুনিয়াবি জ্ঞানও অর্জন করা এবং জ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগ ও ব্যবহার করা এবং আল্লাহর শিখিয়ে দেওয়া এই দোয়া বেশি বেশি পাঠ করা ‘রব্বি যিদনি ইলমা’ অর্থাৎ হে প্রভু! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন। (সুরা তোহা ১১৪)
লেখক :ছড়াকার ও কলাম লেখ
