কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের আগুনের ঘটনা ঘটেছে। নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৪ টি ইউনিট।
শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উখিয়ার কুতুপালং টিভি টাওয়ারের পাশের ৭ নম্বর ক্যাম্প এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে উখিয়ার টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। তাদের একটু পরে আসে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট। ক্যাম্পের ঘরগুলো লাগোয়া হওয়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। ঘণ্টা দেড়েক প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যায়নি।
ক্যাম্পে দায়িত্বরত ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক নাইমুল হক নাইম বলেন, শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৭, ব্লক-এ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল সংলগ্ন চেকপোস্ট-৩২ নিকটবর্তী কাটাতারের বাহিরে উখিয়া-টেকনাফ সড়কের পশ্চিম পাশে পাকা রাস্তা সংলগ্ন এলাকায় অগ্নি দুর্ঘটনায় ৭-৮টি দোকান ও আরও কিছু ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস টিম এখনো কাজ করছে। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনো কোন তথ্য পাওয়া যায়নি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলে ১৪-এপিবিএন পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং এলাকার মেম্বার প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন বলেন, এর আগে গত ৯ জানুয়ারি উখিয়ার শফি উল্লাহ কাটা ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন লাগে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও প্রায় এক হাজারের অধিক ঘর পুড়ে যায়।
এর আগে ২ জানুয়ারি বালুখালী ২০ নম্বর ক্যাম্পে জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (আইওএম) পরিচালিত করোনা হাসপাতালে আগুন লাগে। ওই আগুনেও কেউ হতাহত হয়নি। তবে হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারের ১৬টি কেবিন পুড়ে যায়।
এদিকে ২০২১ সালের ২২ মার্চ উখিয়ার বালুখালীতে ক্যাম্পে লাগা আগুনে মৃত্যু হয় ডজন রোহিঙ্গার। পুড়ে যায় ১০ হাজারের মতো ঘর। আজকেও বেশ কিছু ঘর পুড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনই বলা যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন।
