মিয়ানমারের অস্থিরতায় বিলম্বিত হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩১

রোহিঙ্গা সংকটের জন্য মিয়ানমার দায়ী, সমাধানও মিয়ানমার থেকেই আসতে হবে উল্লেখ করে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেছেন, মিয়ানমারের আভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হচ্ছে। আরাকানে চলমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া নিরাপদ নয়। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সঙ্গে যৌথ আলোচনায় মানবাধিকার নিয়েই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে কাজ করছে জাতিসংঘ।

গতকাল শুক্রবার উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে হোটেল সায়মন বিচ রিসোর্টের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ফিলিপ্পো গতকাল জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকোক ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মহাপরিচালক এন্তোনিও ভিতোরিনোকে নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের ১১, ১৭ ও ১৮ ব্লক পরিদর্শনের পর তারা যৌথ প্রেস ব্রিফিং করেন। 

 ফিলিপ্পো আরো বলেন, ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে গিয়ে স্থানীয়রা সব দিক দিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন। বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয়দের মানবিকতার নজির বিশ্বময় প্রশংসিত হয়েছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক কমিউনিটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ও এদেশের উদার মানবতার সঙ্গে আমরাও একাত্মতা ঘোষণা করছি। আন্তর্জাতিক তিন সংস্থার প্রধান রোহিঙ্গা  ইস্যুতে আরো বলেন, মিয়ানমার তাদের আদি গোষ্ঠী রোহিঙ্গার ওপর যে নিপীড়ন চালিয়েছে তা অমানবিক। সভ্য যুগে এটি কল্পনাও করা যায় না। আমরা এর নিন্দা জানাই। ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারাও (রোহিঙ্গারা) ফিরে যেতে চান। তবে, নাগরিকত্ব নিয়ে ফিরতে চান তারা। আমরাও চাই তারা সে অধিকার নিয়েই ফিরে যাক। গতবছর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মাঝে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। এরপরও আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। আবার আমরা মিয়ানমারে যাব। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের সম্মতি আদায়ে চেষ্টা করব। এতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতাও দরকার।

জাতিসংঘ কর্মকর্তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের অনেকে উন্নত আবাসনের আশায় অন্যত্র যাবার পরিকল্পনায় বিভোর। প্রলোভনে পড়েই অনেকে পাচারে জড়াচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন আইএমও’র মহাপরিচালক। ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেন, ভাসানচরে নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে আবাসন তৈরি করেছে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু এটি যে নিরাপদ হবে এ বিষয়টি রোহিঙ্গাদের বিশ্বাস করানো যাচ্ছে না। তাই তারা ওখানে যেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এতে আইএনজিও বা ইউএন’র কোনো হাত নেই। আবার জোর করে তাদের ভাসানচরে পাঠানোর পক্ষেও নই।