নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া থেকে বাপ্পী চত্বর, হাটখোলা, কাঠপট্টি হয়ে মোক্তারপুর পর্যন্ত রাস্তাটি নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জে যাতায়াতের রাস্তা হিসেবে ব্যবহূত হয়। কিন্তু এ রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় অত্যন্ত বেহাল পরিস্থিতি। পুরো রাস্তা জুড়েই বিশাল বিশাল গর্ত। নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য প্রধান যানবাহন হচ্ছে লেগুনা, ইজিবাইক এবং সিএনজি চালিত অটোরিকশা। ভাঙা রাস্তায় এসব যানবাহনে চলাচল করার সময় প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে যাত্রীদের তো বটেই, গাড়িচালক ও হেলপারের অবস্থাও শোচনীয় হয়ে পড়ে। এ রাস্তায় চলাচলকারী লেগুনার ড্রাইভার সালাম জানান, বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে যায়, ফলে তখন আর গর্তগুলো দেখা যায় না। এ অবস্থায় অনেক সময় গাড়ির সামনের অংশ গর্তে পড়ে ডুবে গিয়ে ভেতরে পানি ঢুকে যায়। প্রায়ই গাড়ি বন্ধ হয়ে যায় পানিতে। অনেক সময় গর্তে পড়ে গাড়ির স্প্রিং ভেঙে যায়। সপ্তাহে দুই-তিন দিন গাড়ি গ্যারেজে নিতে হয়। যা আয় হয় তার চেয়ে বেশি ব্যয় হয়ে যাচ্ছে এই রাস্তার কারণে। ইজিবাইক চালক সেন্টু মিয়া জানান, রাস্তায় গর্তের কারণে প্রতিদিন তিন-চারটি ইজিবাইক উল্টে যাচ্ছে। আমার গাড়িটিও কয়েকদিন আগে উল্টে গিয়ে কয়েকজন মহিলা যাত্রী আহত হয়েছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কটি সেতু কর্তৃপক্ষ, কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন। কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান, এই সড়কের যে অংশটি ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি করপোরেশনে পড়েছে সে অংশটি সিটি করপোরেশন ঠিক করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা আমাদের কোনো সহযোগিতা চাইলে আমরা করবো। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কবির হোসেন জানান, রাস্তাটির পাওয়ার স্টেশন পর্যন্ত অংশ সিটি করপোরেশনের এবং বাকি অংশ কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও সেতু কর্তৃপক্ষের আওতায় পড়েছে। রাস্তাটির ইউনিয়ন পরিষদের অংশ সিটি করপোরেশন জনগণের স্বার্থে মেরামত করে দেবে। এ ব্যাপারে টেন্ডার আহ্বান প্রক্রিয়াধীন আছে। আশা করি ঈদের আগেই কাজ শুরু হবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান জানান, ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কের ভাঙা অংশ মেরামতের জন্য এক কোটি বিশ লাখ টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। আশা করি ঈদের আগেই মেরামত সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কের নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ অংশে রাস্তার দুপাশে যাদের বাড়ি তারা তাদের বাড়ির ওপর দিয়ে বৃষ্টির পানি যেতে দেয় না। ফলে পানি রাস্তায় আটকে থাকে। এতে সহজেই রাস্তা ভেঙে যায়। সমস্যা সমাধানে রাস্তার দুপাশে ড্রেন করার প্রস্তাব করেন কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের সব রাস্তার দুপাশে ড্রেন আছে ফলে তাদের রাস্তা সহজে ভাঙে না।
