রাইড শেয়ারিং অ্যাপ উবারের মোটরসাইকেল চালক সুমন বৃহস্পতিবার কলেজ গেটে অবস্থান করছিলেন। উবারে লাবণ্যের কল পেয়ে সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে সুমন তাকে ফোন দেন। লাবণ্য বাসাবোর ছায়াবীথি মসজিদের সামনে যাওয়ার জন্য শ্যামলী ৩ নম্বর সড়ক থেকে তার মোটরসাইকেলে ওঠেন। জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সামনে পৌঁছলে তার মোটরসাইকেলের সামনে দিয়ে এক ব্যক্তি দৌড়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এসময় তিনি মোটরসাইকেল হার্ডব্রেক কষলে একটি কাভার্ডভ্যান তাতে ধাক্কা দেয়। এসময় লাবণ্য ও সুমন দুজনই ছিটকে পড়েন। গাড়ির সামনে পড়ায় লাবণ্যকে চাপা দিয়ে কাভার্ডভ্যান নিয়ে চালক পালিয়ে যায়।
পুলিশ গতকাল পর্যন্ত সেই কাভার্ডভ্যান কিংবা রাস্তা পার হওয়া পথচারীকে শনাক্ত করতে পারেনি। তবে মোটরসাইকেল চালক সুমনকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ের বাসা থেকে আটক করে তাদের হেফাজতে নেয়। পরে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে লাবণ্যর মৃত্যুর প্রতিবাদ ও দায়ী চালককে গ্রেফতার করে শাস্তির দাবিতে গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন করেছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। লাবণ্য ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
শেরে বাংলানগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সী বলেন, দুর্ঘটনায় সুমন দু্ই পায়ে আঘাত পেয়েছেন। তাকে পুলিশ হেফাজতে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অজ্ঞাত গাড়ি ও চালকের বিরুদ্ধে লাবণ্যর বাবা এনামুল হক বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলাটি করা হয়েছে ২৭৯, ৩০৪ (খ) ধারায়। তিনি বলেন, সুমনকে গ্রেফতার নয়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। চালক হিসেবে তার অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত ভুল ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসি ক্যামেরা ছিল না। তবে একটু দূরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরা রয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ছিল। একারণে এসব ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা যায়নি। সেগুলো সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা করে কাভার্ড ভ্যানটি শনাক্তের চেষ্টা করা হবে।
