দেশে ফার্নিচার শিল্পোন্নয়নে আইকন নইমুল হোসেন

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৯:৫৮

বাংলাদেশে ফার্নিচার শিল্পোন্নয়নে এক অনবদ্য আইকন শিল্প উদ্যোক্তা মো. নইমুল হোসেন খান। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উড টেক সল্যুশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উড ওয়ার্কিং টেকনোলজি সল্যুশন সেন্টারের স্বপ্নদ্রষ্টা তিনি।

বাংলাদেশে ফার্নিচার শিল্পকে আধুনিকায়ন করার পাশাপাশি এ শিল্প সংশ্লিষ্টদের ভাগ্য বদলের লক্ষ্যে ২০০০ সালে উড টেক সল্যুশনের উপস্থিতি ঘোষণা করেন তিনি। দেশের গণ্ডি পেড়িয়ে উড টেক সল্যুশনকে নিয়ে গিয়েছেন বিশ্ব কাতারে। তিনি এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় উড টেকনোলোজি কনসালটেন্টদের একজন। ভিন্নধর্মী বিষয় নিয়ে কাজ করা এই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এখন দেশসেরা উদ্যোক্তাদের কাতারে। তার হাত ধরেই বাংলাদেশের অনেক নামীদামী ব্র্যান্ডের ফার্নিচার কারখানা গড়ে উঠেছে। তিনি দুয়ার খুলছেন অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেক ফার্নিচার ও দরজার কারখানা তার পরামর্শ অনুসারে গড়ে উঠেছে।কেবল ব্যবসায়ী হিসেবেই নয়, সংস্কৃতিমনা ও ক্রীড়ামোদী এই মানুষটি জনসেবক হিসেবেও স্থাপন করেছেন অনন্য দৃষ্টান্ত।

একটি ফার্নিচার বা দরজা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য ফ্যাক্টরি ডিজাইন, প্রডাকশন লেআউট ডিজাইন থেকে শুরু করে মেশিনারিজ সিলেকশন ও সরবরাহ, মেশিন ইন্সটলেশন, অপারেশন ট্রেনিং ও আফটার সেলস সার্ভিস সহ পূর্ণাঙ্গ সমাধান প্রদান করে উড টেক সল্যুশন। এছাড়া এটি কোন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, কাঁচামাল নির্বাচন- সংগ্রহ, দক্ষ লোকবল নিয়োগ সহ নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছে।

উড টেক সল্যুশনের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, কাঠের তৈরি আসবাবপত্র প্রস্তুতকারকদের কারিগরি সমস্যার সমাধান প্রদান করছে উড টেক সল্যুশন। ফার্নিচার প্রস্তুতকারী যেকোনো স্তরের প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, কাঁচামাল নির্বাচন- সংগ্রহ, দক্ষ লোকবল নিয়োগ সহ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করছি আমরা। সারা পৃথিবী থেকে এনেছি অত্যাধুনিক মেশিনারিজ। কেরানীগঞ্জে আমরা গড়ে তুলেছি বাংলাদেশের একমাত্র ও এশিয়ার সর্ববৃহৎ উড ওয়ার্কিং টেকনোলোজি সেন্টার। যেখানে বিনামূল্যে ফার্নিচার শিল্প সংশ্লিষ্টরা টেকনোলজি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। এককথায় আমরা ফ্যাক্টরি সেটআপের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় পরামর্শ ও সেবা দিয়ে থাকি। 

নতুন উদ্যোগের পেছনের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি বলেন, শুরুতে কোনো উদ্যোক্তাকে টেকনোলজির সহায়তার বিষয় বুঝিয়ে সেটা গ্রহণ করানোটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, তখন এটাতে তারা অভ্যস্ত ছিল না। তবে পরিস্থিতি অনেকটা বদলেছে। অদক্ষ শ্রমিক নিয়োগ সুবিধার জন্য গার্মেন্টসের পরেই আসে অতিমাত্রায় অবহেলিত ফার্নিচার খাত। অথচ এটিকে আমরা এখনো আধুনিকায়ন করতে পারিনি। দেশের উন্নয়নের জন্য এই শিল্পে সরকারি সহযোগিতা খুবই জরুরী। কারণ এর উন্নয়নের সাথে দেশের অর্থনীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সরকার এখনও কোন ট্রেনিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। কাঁচামাল আমদানিতে উদ্যোক্তাদের প্রচুর ডিউটি দিতে হয়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পণ্যের দামের উপর। তবে এলসি সুবিধাসহ কাগজপত্র, ভ্যাট-ট্যাক্সের জটিলতাগুলো নিরসন করা এখন সময়ের দাবি। 

উড টেক সলিউশন নিয়ে স্বপ্নের কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা কর্মীদের দক্ষতা বাড়িয়ে ফার্নিচার শিল্পকে আরো বেগবান করার স্বপ্ন দেখি। আমরা চাই ফ্যাক্টরিগুলো আন্তর্জাতিক মানের পণ্য বানিয়ে রপ্তানি বাড়িতে দেশের অর্থনীতিতে আরও ভূমিকা রাখুক। আমরা এই লক্ষ নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে, উড টেক সল্যুশন ক্লাস্টারভিত্তিক ১০০টি করে ফ্যাক্টরি নির্বাচন করে তাদের সামগ্রিক প্রোডাকশন উন্নয়নের জন্য ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। সারাদেশব্যাপী এই কাজ চলবে। আমাদের উদ্দেশ্য হলো এই ফ্যাক্টরিগুলোকে আধুনিক ফার্নিচার বানানোর জন্য সক্ষমতা অর্জনে সাহায্য করা। একবার এক্সপোর্ট ট্রেন্ডটা শুরু হয়ে গেলে আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না।

২০২০ সালে সিএনসি রাউটার মেশিনের জন্য বিশ্বে প্রথম একটি ডিভাইস (ডব্লিউটিএস রিস্টার্টিং সিস্টেম) উদ্ভাবন করে উড টেক সলিউশন। এটি ব্যবহারে মেশিন চালু থাকা অবস্থায় বিদ্যুৎ চলে গিয়ে পুনরায় যখন ফিরে আসবে, কারও সহযোগিতা ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেশিন চালু হয়ে যেখানে কাজ বন্ধ হয়েছিল সেখান থেকেই শুরু হবে। এই ডিভাইসের প্যাটেন্টের জন্য ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়েছে।

এছাড়াও উড টেক সল্যুশন এর নিজস্ব মেশিন ব্র্যান্ড ‘ডব্লিউটিএস’ বিশ্বের ৪৩টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এটিই বাংলাদেশের একমাত্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনারি ব্র্যান্ড যা আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত পেয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পর্যন্ত সারাদেশ কয়েকশত ওয়ার্কশপের আয়োজন করেছে উড টেক সলিউশন, যেখান থেকে শত শত কারিগড় উপকৃত হয়েছে। অটবির পর দেশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় আধুনিক ফার্নিচার কারখানা নাভানা ও পারটেক্স প্রতিষ্ঠায় টেকনলজি সাপোর্টসহ নানা সহায়তা করেছিল উড টেক সল্যুশন। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২০ বছর ধরে বাংলাদেশের প্রতিটি ব্র্যান্ডেড ফার্নিচার ও দরজা কারখানার আধূনিকায়নের কাজ হয়েছে উড টেক সলিউশনের হাত ধরে এবং এটা প্রতিনিয়ত চলমান রয়েছে। 

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি