বাংলাদেশের ‘জাতীয়’ পিতার নাম কী? খাবারের নানা ধরণের ফুলের নাম বল। এ ধরনের উদ্ভট ও ভুলে ভরা প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিষয়টি নিয়ে পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হলে পরীক্ষা বাতিল করে কর্তৃপক্ষ।
গত ২৩ এপ্রিল ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে (অভিন্ন প্রশ্নে) ১ম সাময়িক পরীক্ষা শুরু হয়। পরের দিন অনুষ্ঠিত হয় ২য় শ্রেণির পরিবেশ পরিচিতির পরীক্ষা, যাতে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হয়। ৩নং প্রশ্নে বলা হয়, ‘কাবারের (খাওয়ার) আগে ও পরে কি করতে হয়?’ ৪নং প্রশ্নে বলা হয়, ‘খাবারের (বাগানে) নানা ধরণের ফুল দেখতে পাই। আমাদের পরিচিত পাঁচটি ফুলের নাম বল।’ ভুলে ভরা এই প্রশ্নপত্রের ৫নং প্রশ্নটি ছিল, ‘আমাদের জাতীয় (জাতীয়) মাছের নাম কি?’ ৭নং প্রশ্নে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের জাতীয় (জাতির) পিতার নাম কী?’ এছাড়া ই-কার ঈ-কারও একাধিকবার ভুলভাবে ব্যবহার করা হয়।
গত ২৫ এপ্রিল প্রশ্নপত্র নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে ২৫ এপ্রিল তড়িঘড়ি করে পরিবেশ পরিচিতি পরীক্ষা বাতিল এবং শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত, চারু ও কারু, ধর্ম ও নৈতিক পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্ব ছিলো একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার উপর। তিনি ভুল প্রশ্নগুলোর নিচে দাগ দিয়েছিলেন; কিন্তু প্রেসে সেগুলো সংশোধন না করেই ছাপানো হয়েছিলো। ছাপার পর সময়ের অভাবে দেখা সম্ভব হয় নি। নতুন করে প্রশ্ন ছাপিয়ে অন্যান্য পরীক্ষা নেওয়া হবে।
