জাতীয় দল গঠনে নির্বাচকদের ভূমিকা সামান্য!

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২২, ০২:৩৯

গত বছর টি-২০ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেল ও হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি পরিবর্তনের দাবি উঠেছিল সর্বত্র। বিশেষ করে ক্রিকেটপ্রেমীরা প্রধান নির্বাচক নান্নু ও ডমিঙ্গোর বিদায় দেখতে মুখিয়েছিলেন।

তবে দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা বিসিবি সেই পথে হাঁটেনি। মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, নতুন চুক্তিও হয়নি, তারপরও বিসিবির সবুজ সংকেত পেয়ে কাজ চালিয়ে গেছেন নির্বাচকরা। হাবিবুল-রাজ্জাকদের মতো স্বপদে বহাল আছেন ডমিঙ্গোও।

সহসা নির্বাচক প্যানেলে পরিবর্তন আসছে না। খোদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত সোমবার রাতে চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, নির্বাচকদের সরিয়ে দেওয়ার কোনো কারণ পাচ্ছেন না তিনি। এখনই পরিবর্তনের চিন্তা নেই।

বোর্ড সভাপতির কথায় স্পষ্ট নান্নু-হাবিবুলদের নির্বাচক পদ থেকে এখনই সরানো হচ্ছে না। আফগানিস্তান সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দল গঠনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন নির্বাচকরা। ইতিমধ্যে দুই নির্বাচক হাবিবুল ও রাজ্জাকের দক্ষিণ আফ্রিকার ভিসা করানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১ মার্চ) বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে নির্বাচকদের।

চট্টগ্রামে নির্বাচক প্যানেল নিয়ে ভাবনা জানতে চাইলে বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘কিছুই ভাবছি না। আপনাদের কোনো ভাবনা থাকলে বলতে পারেন। আপনারা আমাকে ব্যক্তিগতভাবেও বলতে পারেন। কোনো এক সিরিজে কি আপনাদের মনে হয়েছে সিলেকশন ঠিক হয়নি? একটা উদাহরণ দিন।’

তরুণ ক্রিকেটারদের দলে নিয়ে আবার না খেলিয়ে ছুড়ে ফেলার ঘটনা তুলে ধরেন সংবাদকর্মীরা। বোর্ড সভাপতি জানালেন, খেলানোর জন্য সবাইকে দলে নেওয়া হয় না। এখন দল নির্বাচনে কোচ, অধিনায়ক, টিম ডিরেক্টরের চাহিদাও পূরণ করতে হয় নির্বাচকদের।

পাপন বলেছেন, ‘স্কোয়াড করার সময় কিছু খেলোয়াড়কে নেওয়ার ইচ্ছা হয় অধিনায়কের, কোচের কিছু থাকে। এখন আবার সুজন আছে তারও মাঝেমধ্যে ইচ্ছা থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দলে নেওয়া হয় শুধু অধিনায়কের ইচ্ছায়, আবার কিছু ক্ষেত্রে কোচের ইচ্ছায়। নেওয়া উচিত কি উচিত না সেই কথা বলছি না। কখনো সুজন নিয়ে যায়। তার মানে এই না দলে খেলবে। কিছু খেলোয়াড়কে জাতীয় দলের স্বাদ দেওয়ার জন্য দলের সঙ্গে রাখা হয়। ওরা কেউ একাদশে থাকবে না।’

ক্রিকেটাররা ব্যর্থ হলে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা নির্বাচকদের সহ্য করতে হয়। অথচ বিসিবি সভাপতির কথায় স্পষ্ট দল নির্বাচনে এখন নান্নু-হাবিবুলদের ভূমিকা খুব সামান্যই বটে। পাপন বলেছেন, ‘প্রথম ২৫-২৬ জন ছাড়া কোথাও নির্বাচকদের ভূমিকা নেই। এ ব্যাপারে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। যদি এমন কাউকে পাই সে ভালো করবে, বোর্ড তাকে নিতে এক সেকেন্ডও দেরি করবে না। আমরা এখন পর্যন্ত এমন কোনো ভুল দেখিনি যে তাদের বাদ দিতেই হবে।’

ইত্তেফাক/টিএ