মানুষ একটা কথা বলে থাকে, দেওয়ালেরও কান আছে! একটি নির্জন রুমে দুই ব্যক্তির কথোপকথনও অনেক সময় নিরাপদ থাকে না। কীভাবে যেন তৃতীয় ব্যক্তি শুনে যায়। হয়তো আপনি যাকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভেবে গোপন কথাটা বলছেন, তারও তো প্রিয় বন্ধু থাকতে পারে। সে গোপন কথাটা তাকে বলে দিলে তখন আর এই কথা গোপন থাকবে না। এই দোষচর্চা বা গিবত করা ইসলামের দৃষ্টিতে পাপ ও নিন্দনীয়।
কারো অবর্তমানে তার দোষচর্চা করা উচিত নয়। এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ ফরমান, তোমাদের কেউ যেন কারো পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। [সুরা হুজুরাত ১২]
হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, একদা রসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, গিবত কী? তিনি বললেন, তোমার ভাইয়ের ব্যাপারে তোমার এমন কিছু বলা যা শুনলে সে অসন্তুষ্ট হয়। পুনরায় প্রশ্ন করা হলো, আমি যা বলি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে বর্তমান থাকে? তিনি বললেন, তুমি যা বলো তা যদি তার মধ্যে থাকে তাহলেও তুমি তার গিবত করলে। আর তুমি যা বলো তা যদি তার মধ্যে না থাকে তবে তুমি তাকে মিথ্যা অপবাদ দিলে। [সুনানে আন-নাসায়ি, হাদিস নম্বর ৪৮৭৪]
যদি আমরা অন্যের দোষ প্রকাশ না করি, তাহলে আল্লাহ আমাদের দোষও গোপন রাখবেন। হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দোষত্রুটি গোপন করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষত্রুটি গোপন রাখবেন। [সহিহ মুসলিম :২৬৯৯] অতএব, এ ব্যাপারে আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কেননা গিবতের কারণে সমাজে অনেক রকম অশান্তির সৃষ্টি হয়।
লেখক: ইসলামি গবেষ
