ইউক্রেনে হামলা চালাতে রাশিয়া কেন বিমানবাহিনীকে পুরোদস্তুর ব্যবহার করছে না? রহস্যটা কোথায়? রুশ বিমানবাহিনীর যা ক্ষমতা, তাতে যেকোনো মুহূর্তে ইউক্রেনকে ধ্বংস করে দিতে পারে বলেই মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে বিমানবাহিনীকে পুরোপুরি ব্যবহার করা থেকে এখনো পর্যন্ত বিরত থেকেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আর এখানেই রহস্য তৈরি হচ্ছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। রুশ বিমান সেনা ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমাবর্ষণ করছে রাজধানী কিয়েভ, খারকিভসহ ইউক্রেনের নানা প্রান্েত। এখনো কেন বিমানবাহিনীকে পুরোদস্ত্তর কাজে লাগাচ্ছেন না পুতিন? অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, ইউক্রেনের বিমানবাহিনী অনেক বেশি সক্রিয়। তারা রুশ বাহিনীর হামলাকে ক্রমাগত প্রতিরোধ করে যাচ্ছে। যেখানে ইউক্রেন বিমানবাহিনীকে পুরোদস্ত্তর কাজে লাগাচ্ছে, রাশিয়া এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে কেন?
কোনো কোনো সামরিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, রাশিয়া এখন পর্যন্ত তার পুরো সামরিক শক্তি কাজে লাগায়নি। কারণ, রাশিয়া সময় নিচ্ছে। তারা চাইছে শহরগুলো থেকে লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাক কিংবা শহর খালি করে দিক। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে যাতে হতাহতের সংখ্যা না বাড়ে, তাই হামলার তেজ কমিয়ে ইউক্রেনবাসীকে সময় দিতে চাইছে রাশিয়া। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
তাছাড়া এই যুদ্ধে রাশিয়ারও কম ক্ষতি হচ্ছে না। বহু সৈনিকের মৃতু্য হচ্ছে। এই দিকটাও মাথায় রাখতে হচ্ছে পুতিনকে। যদি বিপুলসংখ্যক সেনার মৃতু্য হয়, তাহলে নিজের দেশেও ক্ষোভের মুখে পড়তে পারেন পুতিন, যা তিনি চাইছেন না। আর তাই হামলার গতি কমিয়ে রণকৌশল বদলানোর চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছে রাশিয়া। হামলার পাশাপাশি সৈনিকদের নিরাপত্তার ওপরও জোর দিতে হচ্ছে রাশিয়াকে। আর সে কারণেই কিয়েভ দখল করার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কনভয়ের গতি যেন আচমকাই শ্লথ করে দেওয়া হয়েছে। কিয়েভ ও খারকিভে যে প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে রুশ বাহিনীকে, যে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ধীরে খেলার কৌশল নিচ্ছে তারা।
