ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যদি ফোন করেন, তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ। রোববার (১ নভেম্বর) তিনি বলেন, পুতিন কখনই আলোচনা থেকে পিছিয়ে যাননি এবং জেলেনস্কি যোগাযোগ করলে তিনি অবশ্যই সাড়া দেবেন।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দুই নেতার মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠক হয়নি। ফোনালাপও হয়নি। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যস্থতায় নরম্যান্ডি ফরম্যাটের আলোচনায় তাদের দেখা হয়েছিল।
কিয়েভ দীর্ঘদিন ধরে দুই নেতার সরাসরি বৈঠকের দাবি জানিয়ে আসছে। গত জুলাইয়ে জেলেনস্কি পুতিনকে উদ্দেশ করে খোলা চিঠি লিখে যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে শুক্রবার কিয়েভ ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরাসরি বৈঠক এড়াতে ফোনালাপের প্রস্তাব দিয়ে বিষয়টি সামলানোর চেষ্টা করছে ক্রেমলিন। ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ধরনের আলোচনার চেষ্টা তাঁরা ইতিমধ্যে ফোনে করেছেন।
শুক্রবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, পুতিন ‘সবার সঙ্গে সংলাপে বসতে আগ্রহী’। জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনো কেউ ফোন করেনি।’ এর আগে পুতিন জেলেনস্কিকে ‘অবৈধ নেতা’ বলে অভিহিত করেছিলেন এবং বলেছিলেন, আগে থেকে অনুমোদিত কোনো চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্যই কেবল তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে বসবেন।
পেসকভ আরও বলেন, শান্তি আলোচনার প্রথম ধাপ রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয়ভাবে হওয়া উচিত। ইউরোপকে যুক্ত করার প্রয়োজন আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলে অন্তত প্রথম কয়েকটি ধাপ তিন পক্ষের মধ্যে হওয়াই যৌক্তিক।
উশাকভ অবশ্য বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় ইউরোপকেও যুক্ত করা উচিত। কারণ চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ইউরোপের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো টেলিগ্রাফকে জানিয়েছে, ইউরোপকে যুক্ত করার পেছনে রাশিয়ার অন্য উদ্দেশ্যও রয়েছে। পরবর্তী দফার আলোচনাকে কাজে লাগিয়ে ন্যাটোর সম্প্রসারণ নিয়ে ছাড় আদায় করতে চায় মস্কো। পুতিন ন্যাটোর এই সম্প্রসারণকেই ইউক্রেন যুদ্ধের ‘মূল কারণ’ বলে দাবি করে আসছেন।
এদিকে ন্যাটোভুক্ত কিছু দেশকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কঠোর বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছে পেন্টাগন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়াসহ কয়েকটি দেশকে মস্কোকে উসকে দেওয়া এড়াতে সংযত থাকতে বলা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ন্যাটোর নেতাদের বলা হয়েছে রাশিয়ার নিন্দা জানিয়ে প্রকাশ্য বিবৃতি দিলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দুর্বল হতে পারে।
পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কোলবিসহ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ বার্তা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ইউরোপের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা আপনাদের সহায়তা করছি। মার্কিনিরা আপনাদের পাশে রয়েছে। শুধু বেশি সরব হবেন না। অযথা হৈচৈ করবেন না। এ বিষয়ে পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সংস্থাটি বলেছে, মিত্রদের মধ্যে ব্যক্তিগত কথোপকথন ব্যক্তিগতই থাকে।
