বাদল হোসাইন উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের রামকান্তপুরের মো. শাহাজাহান মৃধার ছেলে। পেশায় সাংবাদিক। একটি বেসরকারি টেলিভিশনে স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। এরই ফাঁকে তিনি নিজের জমিতে পেয়ারাবাগান করে এখন এলাকার রোল মডেল। পাঁচ বিঘা জমিতে পেয়ারাবাগান করে প্রতি বছর তিনি ১৫ লাখ টাকা আয় করেন বলে জানা গেছে।
তার বাগানে সারি সারি গাছে পাতার আড়ালে অসংখ্য ডাঁসা পেয়ারা। বাদল বলেন, একেকটি গাছে ৪০ কেজি পর্যন্ত পেয়ারা রাখা যায়। এর বেশি ফলন হলে ছিঁড়ে বিক্রি করতে হয়। তা না হলে পেয়ারার ভারে ডাল ভেঙে যায়। শীতকালের তিন মাস বাদ দিয়ে সব সময় কলমের চারা রোপণ করা যায়। শীতকালে চারা না টিকলেও পেয়ারার ফলন ভালো হয়। তবে বৈজ্ঞানিক ক্যাটাগরিতে ফলন ভালো করার কৌশল রয়েছে। শীতকালে পেয়ারার দামও বেশি পাওয়া যায়। এ ছাড়া এ সময় পোকার আক্রমণ কম হয়। দুই মাস পর পর পেয়ারা ছিঁড়ে ফেলতে হয়। রোপণের বছর বাদে প্রতি বছর একবার ডালপালা ছাঁটাই, মাটি কোপানো, প্রতি তিন মাসে এক বার নিড়ানি এবং দুই থেকে তিন মাস অন্তর সেচ ও সামান্য জৈব সার ব্যবহার ছাড়া আর কোনো খরচ হয় না।
বাদল বলেন, পেয়ারা চাষ করে যে লাভ হয়, অন্য ফসলে হয় না। লাভজনক ব্যবসা বলে তিনি পেয়ারা আবাদে ঝুঁকে পড়েন। আশ্বিন মাসে চারা তৈরি করে কার্তিক মাসে জমিতে তা লাগানো হয়। বারো মাসই বিক্রি করা যায়। ফুল আসে বছরে দুই বার। এই ফুল থেকে পেয়ারা বাজারে যেতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগে।
বাদল বলেন, থাই পেয়ারার চারা ৪০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। থাই পেয়ারার প্রকারভেদ আছে। থাই থ্রি, ফাইভ ও সেভেন। থাই ফাইভ মাঝারি ধরনের। বাজারে এটার চাহিদা বেশি। থ্রি ছোট এবং সেভেন বড়। তার বাগানে রয়েছে থাই ফাইভ। এটার প্রচুর চাহিদা। এই চারা তিনি চুয়াডাঙ্গা থেকে কিনে আনেন। উপযুক্ত মাটিতে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে পুষ্টিসমৃদ্ধ পেয়ারা চাষে ভাগ্য বদল করা যায়। পেয়ারার গাছ মাঝারি আকারের প্রশাখাবিশিষ্ট আকৃতির হয়ে থাকে। শীতের সময় পাতা ঝরে পড়ে। বসন্তের শেষের দিকে পেয়ারাগাছে নতুন পাতা ও ডগা আসে।
পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সব জাতের পেয়ারায় শীতকালে গুণাগুণ বেড়ে যায়। পেয়ারা ছোট অবস্থাতেই ব্যাগিং করলে রোগ, পোকামাকড়, পাখি, বাদুড়, কাঠবিড়াল—এসব থেকে সহজেই রক্ষা করা যায়। ব্যাগিং করা ফল অপেক্ষাকৃত বড় আকারের এবং আকর্ষণীয় রঙের হয়। ব্যাগিং পলিথিন দিয়ে করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৬০০ কেজি পলিথিন কিনতে হয়। ব্যাগিং করলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে প্রতিহত করা হয়। ফলে কোষ বিভাজন বেশি হয় এবং ফল আকারে বড় হয়।
