মানিকগঞ্জ শহরের উত্তর সেওতা এলাকায় ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে একটি ফ্ল্যাটে ঢুকে এক বৃদ্ধাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার উত্তর সেওতা এলাকার বায়তুল আমান ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ঘটনাটি ঘটে। মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে একাই ছিলেন হাজেরা বেগম(৭০)। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বোরকা পরা এক ব্যক্তি ওই ফ্ল্যাটের দরজায় কড়া নাড়ে। হাতে পলিথিনে অল্প পরিমাণ চাল দেখে ভিক্ষুক ভেবে সরল বিশ্বাসে দরজা খুলে দেন হাজেরা বেগম। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই ওই ব্যক্তি সঙ্গে থাকা হাতুড়ি দিয়ে হাজেরা বেগমের মাথায় একের পর এক এলোপাথাড়ি আঘাত করতে থাকে। বৃদ্ধা রক্তাত অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে তার গলায় থাকা প্রায় দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয় ওই হামলাকারী।
হাজেরা বেগমের চিৎকার শুনে পাশের ফ্ল্যাটের অধিবাসীরা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে তার মেয়ে আলেয়া বেগম এসে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাজেরা বেগমের মেয়ে আলেয়া বেগম জানান, দরজা খোলার পরই ওই ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে তার মায়ের মাথায় এলোপাথাড়ি আঘাত করেন। পরে গলার চেইন নিয়ে পালিয়ে যান। হামলার পর মায়ের চিৎকার শুনে পাশের বাসার লোকজন এসে তাকে ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, উত্তর সেওতা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে ঢুকে এক নারীকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

