ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলমাঠে গম চাষ

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২২, ১১:৪৮

ঠাকুরগাঁওয়ে একটি প্রাইমারি স্কুলের মাঠে গমের আবাদ করা হয়েছে। বিদ্যালয় ভবনের বারান্দা ঘেঁষে শুরু হওয়া খেতে বড় বড় গমের চারায় পূর্ণ সম্পূর্ণ মাঠ। সীমানাপ্রাচীরের ভেতরের মাঠটি দেখলে কোনো আবাদি জমি মনে হচ্ছে।

স্কুলের পশ্চিম পাশে থাকা শহিদ মিনার ঘেঁষেই স্বল্প জায়গা রাখা হয়েছে ভবনে প্রবেশের জন্য। বর্তমানে সেই স্কুলের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১৯২ জন। দৃশ্যটি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। এতে ছাত্রছাত্রীরা বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মাঠ না থাকায় ভবনের বারান্দাতেই সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা করছে শিশুরা।

জানা গেছে, হরিণমারী এলাকার স্বার্থে ১৯৫৪ সালে স্থানীয় সমাজসেবক খোস মোহাম্মদ ও তার তিন ভাই মিলে হরিণমারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে দুই-তিন একর জমি দান করে। তবে সম্প্রতি দাতাদের উত্তরসূরিরা স্কুলমাঠে গমের চাষাবাদ করে। একই সঙ্গে তারা স্কুলমাঠের ঐ অংশটুকু নিজেদের বলে দাবি করে। বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার জমির উত্তরসূরি দাবিদার ও গম আবাদকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক হাসান আলী জানান, শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি যদি স্কুলে বিনোদনের ব্যবস্থা থাকে তাহলে শিশুরা উত্সাহিত হয়। কিন্তু এখানে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলার জন্য মাঠটুকুও নেই। এই কারণে আমার সন্তানসহ এলাকার অনেক শিশুই এখন স্কুলে যেতে চায় না। এ বিষয়ে হরিণমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনজুমান আরা বেগম বলেন, আমাদের স্কুলের জমি নিয়ে কিছু ঝামেলা আছে। এই অংশের দাবিদাররা এখানে আবাদ করেছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। আবাদ শুরু করার সময় আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। তখন তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

তবে বিষয়টি অবগত থাকার কথা অস্বীকার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল আজাদ বলেন, আমাকে কেউ বিষয়টি জানায়নি। একটি বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে এ রকম চাষাবাদ কখনোই কাম্য নয়। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় শুরুতেই বিষয়টি আমি জানতে পারিনি। দুই দিন আগে জেনেই ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছি। এখানে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকের গাফিলতি আছে।

ইত্তেফাক/ ইআ