ইকবাল খন্দকার
ওয়াসার পনি সাংঘাতিক বিশুদ্ধ, সাংঘাতিক সুপেয়—এমন দাবি করা হয়েছে খোদ ওয়াসা থেকে। এই দাবি শুনে হাসতে হাসতে কেউ কেউ পেটের নাড়ি-ভুঁড়িতে প্যাঁচ লাগিয়ে ফেলেছেন বলে জানিয়েছে একটি অবিশ্বস্ত সূত্র। তবে সূত্র যত অবিশ্বস্তই হোক, কথা কিন্তু সত্য। মানে হাসাহাসি করার মতোই। এখন প্রশ্ন হলো, ওয়াসার পানি বিশুদ্ধ বা সুপেয় শুনে পাবলিক কেন হাসবে? হাসবে এই জন্য, যেহেতু এমনসব ঘটনা ঘটেই চলেছে। কেমন সব ঘটনা? দুয়েকটা উদাহরণ দিই, তাহলেই বুঝবেন কেমন সব ঘটনা।
আমার এক বড়ভাই কথায় কথায় প্রবাদ বাক্য বলেন। তো কদিন আগে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলে উঠলেন, ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করা ভালো না।’
পাশ থেকে এবার একজন বলে উঠলেন, ‘প্রবাদটা একটা পরিবর্তন করার সময় চলে এসেছে। আগে যা বলেছেন তো বলেছেন, এখন বলতে হবে, ওয়াসার পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করা ভালো না। কারণ, ঘোলা পানির অপর নাম ওয়াসার পানি!’
বড়ভাইয়ের কথার সত্যতা পেলাম আরেকটা ঘটনার মধ্যদিয়ে। আমার এক প্রতিবেশীর সঙ্গে দেখা দুদিন আগে। তো প্রতিবেশী বললেন, ‘সবাই ওয়াসার পানির বদনাম করে। আমি কিন্তু বদনাম করছি না। বরং সুনাম করছি। সুনাম করছি এই জন্য, যেহেতু ওয়াসার পানি দিয়ে গোসল করার কারণে আমার এখন আর কোনো যন্ত্রণা নেই। অথচ আগে এত বেশি যন্ত্রণা ছিল আমি ঘুমাতে পারতাম না। এখন কী শান্তির ঘুম হচ্ছে, আহা!’
আমি বললাম, ‘আপনার কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারছি না। একটু বুঝিয়ে বলেন, প্লিজ।’
প্রতিবেশী এবার বুঝিয়ে বলতে শুরু করলেন, ‘আগে আমার মাথায় প্রচুর উকুন ছিল। উকুনের যন্ত্রণায় না পারতাম ঘুমাতে, না পারতাম এক জায়গায় স্থির হয়ে বসতে। কত শ্যাম্পু ব্যবহার করলাম, কিছুতেই উকুন দূর হলো না। কিন্তু যেই নিয়মিত ওয়াসার পানি দিয়ে গোসল করতে শুরু করলাম, উকুন মরে সাফ।’
পাঠক, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, ওয়াসার পানি কতটা বিশুদ্ধ হলে উকুন পর্যন্ত মরে যায়!
আমার আরেক প্রতিবেশী একদিন বললেন, ‘আগে বাথরুমে গেলে আমার পেট ততটা ক্লিয়ার হতো না। খালি কষা কষা একটা ভাব লেগেই থাকত। একদিন কিভাবে যেন, কিভাবে বলতে অসাবধানতাবশত কিছু পানি পেটে ঢুকে গেল। কিসের পানি বুঝতেই পারছেন। ওয়াসার পানি। ব্যস, শুরু হয়ে গেল পেট নামা। সেই যে পেটের কষা ভাব কাটল, আর ফিরে এল না।’
আমার এক বন্ধুর সঙ্গে ওয়াসার পানি নিয়ে আলাপ করছিলাম। বলছিলাম এই পানিকে সুপেয় দাবি করা হয়েছে, সেই বিষয়ে।
বন্ধু বলল, ‘যে ভদ্রলোক বলেছে ওয়াসার পানি সুপেয়, আমি তার সঙ্গে শতভাগ একমত। একদম সত্য কথা বলেছেন ভদ্রলোক।’
আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘এটা তুই কী বলছিস? ওয়াসার পানি সুপেয়, এই কথাটা কীভাবে সত্য হয়?’
বন্ধু বলল, ‘একটা জিনিস খেয়াল কর। ভদ্রলোক কিন্তু বলেননি পানিটা মানুষের জন্য সুপেয়। বলেছেন? বলেননি। কথা সেটা না। কথা হচ্ছে, ওয়াসার পানি অবশ্যই সুপেয়। কারণ, গতকাল আমি একটা কাউয়াকে ঢকঢক করে ওয়াসার পানি খেতে দেখেছি। একদম ফুটানো ছাড়া।’
