আনিস সাহেবের ইচ্ছাপূরণ

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:০৮

 

অলোক আচার্য

 

আনিস সাহেবের সামনে বিপদ। শুধু বিপদ না মহাবিপদ। একেবারে দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেত। বিপদটা হলো তিনি পড়েছেন ইচ্ছাপূরণকারী এক দৈত্যের পাল্লায়। দৈত্য তিনি নিজে ডেকে আনেননি। ভুল করে চলে এসেছে। আজ অফিস থেকে ফেরার পথে তিনি যে বাসের যে সিটে বসেছিলেন, সেখানে তার পাশের ভদ্রলোকের সঙ্গে ব্যাগ বদল হয়ে যায়। রাতে ভদ্রলোকের ঠিকানা বের করার জন্য ব্যাগ খুলতেই একটি রুপার চারকোনা বাক্স পেলেন। খুলবেন না খুলবেন না করেও তিনি কৌতূহল সামলাতে না পেরে কৌটাটা খুললেন। আর সঙ্গে সঙ্গেই বিকটাকার সেই দৈত্যটা এসে হাজির। তিনি প্রথমে আলাদিনের দৈত্য পেয়েছেন ভেবে বেশ খুশিই হলেন। তবে দৈত্য যখন জানাল যে সে আলাদিনের সেই দৈত্য না তখন বেশ হতাশ হলেন। তবে এই দৈত্যও আনিস সাহেবের তিনটি ইচ্ছা পূরণ করবে বলে জানাল। দৈত্যের শর্ত অনুযায়ী যদি আনিস সাহেবের তিনটি ইচ্ছা দৈত্য পূরণ করতে পারে তাহলে সারা জীবন আনিস সাহেবকে দৈত্যের কথা মতো চলতে হবে। আর যদি না পারে সেক্ষেত্রে দৈত্যই তার কথা মতো চলবে আজীবন। কিন্তু এই দৈত্য সব পারে। তিনি দৈত্যের কাছে একরাতের সময় চেয়ে নিলেন। অত্যন্ত টেনশন নিয়ে ঘুমাতে গিয়ে শেষরাতে তিনি স্বপ্ন দেখলেন অফিসে যাওয়ার পথে বাংলামোটরের কাছে তিনি জ্যামে পড়েছেন। একঘণ্টা, দেড়ঘণ্টা চলে যাচ্ছে কিন্তু জ্যাম ছাড়ছে না। তিনি দেরি করে অফিসে যাওয়ার জন্য বসের কাছে ঝাড়ি খাবেন ভেবে ঘামতে লাগলেন। এই সময় তার ঘুম ভেঙে গেল। ঘুম ভেঙেই তিনি বললেন ইউরেকা! তিনি দৈত্যকে ডাকলেন।

‘আমার প্রথম ইচ্ছা ঢাকা শহরকে যানজট মুক্ত করতে হবে।’

দৈত্য তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, ‘এটা কোনো কাজই না।’ দৈত্য অদৃশ্য হলো। এরপর প্রায় একমাস দৈত্যের দেখা নেই। মাসখানেক পর হঠাত্ একদিন দৈত্য হাজির। বেচারা দৈত্যের শরীর বিধ্বস্ত, ক্লান্ত। ‘আমি আপনার আদেশ মানতে পারিনি জনাব। আমি অনেক চেষ্টা করেও ঢাকা শহরকে যানজট মুক্ত করতে পারিনি। এই প্রথম আমি কোনো কাজে ব্যর্থ হলাম। আপনি দ্বিতীয় ইচ্ছার কথা বলুন।’ আনিস সাহেব আগে থেকেই ভেবে রেখেছিলেন তার পরের দুটি ইচ্ছার কথা।

তার দ্বিতীয় ইচ্ছা ছিল ঢাকা শহরকে ভূমিকম্পের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা। দ্বিতীয় ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে দৈত্যের অবস্থা আরো খারাপ হলো। তার ক্ষমতার সবটা প্রয়োগ করেও সে ঢাকাকে ভূমিকম্পের ঝুঁকিমুক্ত করতে পারল না। দৈত্য আনিস সাহেবের তিন নম্বর ইচ্ছার কথা আর শোনেনি। কারণ দৈত্য বুঝে গিয়েছিল আনিস সাহেবের কোনো ইচ্ছাই সে পূরণ করতে পারবে না। ফলে চুক্তি মতো দৈত্য আনিস সাহেবের কথা মতো চলতে লাগল।

পাবনা।