—মিস্টার তরমুজ আলি
গ্রীষ্মের শুরুতেই কাওরান বাজারসহ দেশের বিভিন্ন বাজার দখল করে বসে আছেন মহামান্য তরমুজ সম্প্রদায়ের লোকজন থুড়ি তরমুজগণ। ইত্তেফাক অফিসের পাশেই কাওরান বাজার অবস্থিত বিধায়, ঠাট্টাত্কার নিয়ে তরমুজদের আবদার একটু বেশিই, সেই সঙ্গে অভিযোগও অঢেল—কেন তারা আরও আগে সাক্ষাত্কার প্রদানের সুযোগ পেল না! তরমুজ সম্প্রদায়ের মান রাখতে এবারের ঠাট্টাত্কারটি নিয়েছেন ঠাট্টারু এমদাদ হোসেন শরীফ
ঠাট্টা :কেমন আছেন তরমুজ আলি?
তরমুজ :কাল তো ছিলাম ভালো। আজ আমার কী হলো সে কথা বুঝিয়ে বলতে পারব না এখানে।
ঠাট্টা :বাহ! আপনারা দেখি নিয়মিত বাংলা সিনেমার গানও শুনছেন? তা শুনছেন নাকি রপ্তও করছেন।
তরমুজ :দেখুন আপনি যা ভাবছেন ব্যাপারটা তা না! এত দিন ফসলের মাঠে মায়ের কোলে শুয়ে-বসে কাটাতাম। যেই না ফসলের মাঠ থেকে তুলে ট্রাক, ভ্যানে করে এ শহর থেকে ও শহরে আমাদের পাঠানো হচ্ছে শরীরটা কেমন যেন ম্যাজম্যাজ করছে।
ঠাট্টা :আপনাদের নিয়ে ফল সম্প্রদায়ের অভিযোগ আছে, আপনারা এ শহরের ভাড়াটে ফল।
তরমুজ :এসব গুজব তারা হিংসা থেকে রটাচ্ছে। আমরা ভাড়াটে না। আমাদের তুলনা আপনি করতে পারেন শীতের অতিথি পাখির সাথে। তারা যেমন শীতে আসে, আমরা গ্রীষ্মে।
ঠাট্টা :ফল সম্প্রদায়ের কথা না হয় বাদ দিলাম। মানুষেরও তো আপনাদের নিয়ে বিভ্রান্তি থাকে ভেতরে কী কালার হবে।
তরমুজ :হাহা এই কথা! আমরা অদ্ভুত এক ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছি। বাইরে সবুজ দেখালেও ভেতরে লাল টুকটুকে। এই বিশেষ গুণ আমাদের অন্যান্য ফল থেকে আলাদা করে রেখেছে।
ঠাট্টা :আপনারা বারো মাসজুড়ে কেন থাকতে চান না?
তরমুজ :আমাদের রাখার সামর্থ্য ও ক্ষমতা কারো নাই। আমাদের রাখতে হলে দেশকে বারো মাস গ্রীষ্ম উপযোগী আবহাওয়া করে রাখতে হবে। দেখা গেলো শীতেও তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে তখন কেউ কী আমাদের ছুঁয়ে দেখবে?
ঠাট্টা :সব ঠিক আছে কিন্তু তরমুজের বিচির কারণে এই ফল অনেকের অপছন্দের তালিকায়ও থাকে।
তরমুজ :মায়ের চেয়ে মাশির দরদ বেশি হলে যা হয়! আপনি তৃষ্ঠা নিবারণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তরমুজ খাচ্ছেন। তাতে বিচিতে কামড় তো লাগবেই। প্রবাদ পড়েননি, কান টানলে মাথা আসে।
ঠাট্টা :তরমুজ বাইরে সবুজ ভেতরে রক্তাক্ত লাল এটা কী হিসেবে দেখেন?
তরমুজ :তরমুজের ভেতরে রক্তাক্ত লাল এটা শিক্ষণীয়। মানুষে মানুষে নানা শ্রেণি, ধর্ম, বর্ণের লোক রয়েছেন তাদের সবার রক্ত লাল? কারো রক্তে ধর্ম, বর্ণ, পরিচয় লেখা নাই। তরমুজেরটাও সেরকম।
ঠাট্টা :এত কিছুর পরও আপনাদের আফসোস হয় না?
তরমুজ :আফসোস হয় যখন দেখি মানুষ আমাদের শরীরে ইনজেকশন দিয়ে কী সব ঢুকিয়ে তরমুজকে টুকটুকে লাল ও দীর্ঘজীবন দিচ্ছে।
ঠাট্টা :আপনাদের তো খুশি হওয়ার কথা, দীর্ঘ জীবন পাচ্ছেন?
তরমুজ :আমরা তরমুজ, মানুষ তো নই। তাই মানুষের মতো স্বার্থপর হতে পারি না। এইসব ইনজেকশন দেওয়া তরমুজ খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে তখন আমাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। আমরা সবসময় আমাদের ফুড রিভিউ ফাইভ স্টার ধরে রাখতে চাই।
ঠাট্টা :যেহেতু ঠাট্টা একটা হাসির পাতা আপনাদের নিয়ে দু লাইন বলে যান হাসির কথা।
তরমুজ :দু লাইন বললে স্মার্ট হওয়া যায় না। ফেসবুকের ট্রেন্ড ইস্যু ফলো করে এক লাইনে বলতে চাই—মানুষ পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙার বদলে যদি তরমুজ ভেঙে খেত তাহলে কিছুই পেত না। সব মাটিতে পড়ে যেত। হাঃ হাঃ!
ঠাট্টা :সবশেষে কী বলবেন?
তরমুজ :নামে নয় গুণে পরিচয়। কারো নাম বাইরের চাকচিক্য দেখে মূল্যায়ন করবেন না। তরমুজকে দেখে শিখুন বাইরে যা হোক ভেতরেই তার আসল গুণাগুণ। ঠাট্টাকে তরমুজ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ। যতবার ডাকবেন, আসব।
