হাসিন সুলতানা
বাবা :কী গো, ‘তোমার মেয়ে’ কই? তিনটা বেজে গেছে, এখনো কি কলেজেই আছে?
মা :কী জানি, ‘আপনার মেয়ে’র কলেজ বিকালেও থাকে নাকি, আমি বুঝি না।
বাবা : আজকে ‘তোমার মেয়ে’ আসুক। ওর ঠ্যাং কত লম্বা হইছে, আমি দেখব।
মা :‘আপনার মেয়ে’ আপনার লাই পেয়েই আজকে এই অবস্থায় পৌঁছাইছে।
অতঃপর আমার শুভাগমন।
মা :আসছে ‘আপনার’ গুণের কন্যা।
বাবা :‘তোমার’ মেয়েরে ভালোয় ভালোয় জিজ্ঞেস করো, কোথায় গেছিলো।
আমি :আব্বুু, আমাদের সাইফুল স্যারের গতকাল অ্যাকসিডেন্ট হইছে। আর্জেন্ট প্রচুর রক্ত লাগবে, আজকে অপারেশন। তাই আমরা তিন বন্ধু রক্ত দিয়ে এলাম। পপুলার হাসপাতালে। দেরি হবে বুঝতে পেরে তোমাকে ফোন করেছি, তুমি ধরোনি।
বাবা :দেখেছ? কত দায়িত্বশীল ‘আমার মেয়ে’? এই না হলে বাপের বেটি!
মা :ইশ্! শখ কত! ‘আমার মেয়ে’ বলেই আজ এত দায়িত্বশীল হয়েছে, বুঝলেন? কলেজে থাকতে আমিও ডোনার ছিলাম। হুঁহ্!
বাবা :‘আমার’ লক্ষ্মী মেয়ে, বুঝলা?
মা :‘আমার’ মেয়ে!
অতঃপর আমি :বিধি, তুমি বলে দাও আমি কার...।
ঠিকানাবিহীন
