টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় হঠাৎ অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী। এসব প্রাণী মৃত্যুর ঘটনা সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলেও টনক নড়েনি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের। কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে খোঁজ খবর নিয়ে রোগের কারণসহ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মঙ্গলবার (৮ মার্চ) উপজেলার জামুর্কী, পাকুল্যা, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, সাটিয়াচড়া, গোড়ানসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে কুকুর ও বিড়ালের মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। পোষা কুকুর ও বিড়াল ছাড়াও হাট বাজারে এবং বিভিন্ন রাস্তাঘাটে বেওয়ারিশ ঘুরে বেড়ানো বিভিন্ন প্রাণীও রয়েছে। কি কারণে হঠাৎ করে এসব প্রাণী মারা যাচ্ছে তা কেউ বলতে পারছেন না।
পাকুল্যা বাজারের ঔষধ ব্যবসায়ী বাবু তপন কুমার শেঠ বলেন, ‘গত কয়েক দিনের ব্যবধানে তার এলাকায় ৮-১০টি কুকুর এবং ৫-৬টি বিড়াল মারা গেছে।’
জানা গেছে, পাকুল্যা গ্রামের গোপাল কর্মকার, ভাগবত কর্মকার, নিতাই ও চন্ডিসহ আরও বেশ কয়েকজনের বাড়ির পোষা কুকুর ও বিড়াল মারা গেছে। এছাড়া গুনটিয়া, পাকুল্যা বাজার ও সাটিয়াচড়া-গোড়ান গ্রামেও কুকুর বিড়াল মারা যাচ্ছে।
এলাকাবাসীরা জানান, অসুস্থ হওয়ার লক্ষণের মধ্যে প্রথমে এসব প্রাণীর শরীর বেশ গরম হয়। নাক, মুখ ও চোখ দিয়ে আঠালো পানির মত পদার্থ বের হয়। এছাড়া খিঁচুনির সঙ্গে কাশি ও পাতলা পায়খানাও হয়। এসবের দুই-তিন ঘণ্টা পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে প্রাণীগুলো।
পাকুল্যা এলাকার বাসিন্দা শামীম আল মামুন চৌধুরী ইমরানসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ‘অজানা রোগে কুকুর ও বিড়াল মারা যাচ্ছে। এই অজানা রোগ গবাদি পশু এবং সাধারণ লোকজনের মধ্যেও ছড়িয়ে যাওয়ায় আশঙ্কায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।’ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তারা জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুদ্দিন আহমেদ সুজন বলেন, ‘কুকুর ও বিড়াল মরে যাচ্ছে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে কি কারণে কুকুর এবং বিড়াল মারা যাচ্ছে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
