দীর্ঘ দিনেও মিলছে না সোনার হরিণের মতো জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)। কাজের ধীর গতি আর কর্মকর্তা সংকট সব মিলিয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নির্বাচন অফিসে সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নতুন এনআইডি কার্ডের জন্য প্রথমে আবেদন করতে হয়। তার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। কাগজপত্রে নির্বাচন কর্মকর্তার স্বাক্ষরের পর ছবি, ফিংগার, গ্রাহকের স্বাক্ষরের জন্য মেসেজ দেওয়া হয়। সবশেষে ১০ দিন পর গ্রাহকের মোবাইলে এনআইডি কার্ড সম্পূর্ণ হওয়ার বিষয়ে মেসেজ গেলেই গ্রাহকরা অনলাইন থেকে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করে ফেলতে পারেন। কাগজপত্র সব ঠিকঠাক থাকলে ১৫-২০ দিনের মধ্যেই নতুন এনআইডি সম্পন্ন হয়। তবে অনেকেই কাগজপত্র একটা আনলে আরেকটা আনে না এবং সব আনলেও কাগজপত্রে সমস্যা থাকার কারণে তাদের স্থানীয় ইউপি সদস্যদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, যার কারণে এনআইডির কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সময় ক্ষেপণ হয়।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সহকারী অফিসারের পদটি খালি থাকায় এনআইডি কার্ডের কার্যক্রমে কিছুটা ধীর গতির সৃষ্টি হয়েছে। আর নির্বাচন অফিসে এখন শুধু শিক্ষার্থী এবং বিদেশগামীদের এনআইডির কার্যক্রম চালু রয়েছে। সাধারণ মানুষের এনআইডি তাদের নিজ এলাকায় গিয়ে হালনাগাদ করা হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা।
অপর দিকে গ্রাহকদের অভিযোগ, এনআইডির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে মাসের পর মাস। অনেকের ক্ষেত্রে পেরিয়ে যায় বছর। বিশেষ করে বিদেশগামীদের জন্য এই ভোগান্তি চরম আকার রূপ নিয়েছে। কাজল শীল নামের এক ভুক্তভোগী জানান, গত বছরের ২৬ জুন এনআইডির জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছিলাম। গত সাত মাসে ১৫ বারের অধিক নির্বাচন অফিসে দৌড়াদৌড়ি করার পর সর্বশেষ ২২ ফেব্রুয়ারি এনআইডি হাতে পেলাম।
মাহিরা সীমা নামের আরেক ভুক্তভোগী জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর আমার সব ডকুমেন্টস জমা দিয়েছি। এই পর্যন্ত নির্বাচন অফিসে গিয়ে বেশ কয়েক বার যোগাযোগ করেও কাজ হয়নি। যখনি যাই তখনি বলা হয় আর কিছুদিন পরে হবে।
জুবায়ের হোসেন নামের আরেক ভুক্তভোগী জানান, ছয় মাস আগে কাগজপত্র জমা দিয়েছি, এখনো এনআইডি’র কোনো খবর নেই। অনেকবার নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করেছি, তবু কাজ হচ্ছে না। এছাড়াও গত পাঁচ মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাচন অফিসের হয়রানি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রায় শতাধিক ফেইস বুক ইউজার।
এসব বিষয়ে উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ার খালিদ বলেন, আনোয়ারায় অফিসারের পদটা খালি। আমি হাটহাজারী উপজেলা থেকে সপ্তাহে একদিন আনোয়ারাতে আসি। যার ফলে গ্রাহকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে নতুন এনআইডি গ্রাহকদের কাজ অফিসারকেই করতে হয়। তাই তাদের ভোগান্তিটা একটু বেশি হচ্ছে। আশা করি, শিগগিরই আনোয়ারার জন্য নতুন নির্বাচন অফিসার নিয়োগ দেওয়া হবে।
