শ্রেণিকক্ষের অভাবে পাঠদান ব্যাহত

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২২, ১২:০০

সেনবাগ উপজেলায় ৩০ নম্বর আহম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনটি ভবনের মধ্যে দুইটিই জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। অন্য ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত। ফলে শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান। স্কুলটিতে নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ইতিমধ্যে স্কুল কমিটির পক্ষ থেকে একাধিক বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো নতুন ভবন নির্মাণের কোনো ঘোষণা আসেনি।

জানা যায়, ১৯২৮ সালে সেনবাগ উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত হয় ৩০ নম্বর আহম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রায় ১২ বছর আগে থেকে একটি ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। নেই ছাদ, দরজা-জানালা। অন্য দুইটি ভবনে বর্তমানে পাঠদান চলমান রয়েছে। কিন্তু ঐ ভবন দুইটিও জরাজীর্ণ হওয়ায় বৃষ্টি হলে ভবনে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। ভিজে নষ্ট হয় শিক্ষার্থীদের বই-কাগজপত্র। 

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক গোরি শংকর দাস জানান, স্কুলে দুই শিফটে ক্লাস পরিচালনা করা হয়। বর্তমানে আট জন শিক্ষক ও ২০৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। স্কুলটিতে শ্রেণিকক্ষের কাজে ব্যবহৃত তিনটি ভবনের মধ্যে একটি বড় ভবন দীর্ঘ এক যুগ আগে পরিত্যক্ত হয়। বাকি দুইটি ছোট ভবনের স্কুলের অফিস ও শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো এ দুইটি ভবনও বেশ জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলে জরাজীর্ণ ভবনগুলোর ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। এছাড়া আসবাবপত্রের সংকট, শ্রেণিকক্ষের অভাবে পাঠদান বর্তমানে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্কুলের মাঠ ভরাট না থাকায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। 

আহম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ আলাউদ্দিন তুহিন জানান, স্কুলটিতে শ্রেণিকক্ষ দূরীকরণের লক্ষ্যে পরিত্যক্ত ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা, আসবাবপত্র সরবরাহ করা, স্কুলের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ইতিমধ্যে স্কুল কমিটির পক্ষ থেকে একাধিক বার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু স্কুলটিতে এখনো নতুন ভবন নির্মাণসহ অপরাপর সমস্যা সমাধানের সরকারি কোনো ঘোষণা আসেনি।

এ ব্যাপারে সেনবাগ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমান জানান, স্কুলটিতে নতুন ভবন নির্মাণের চাহিদা জানিয়ে ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব শিগ্গিরই নতুন ভবন, সীমানাপ্রাচীরসহ অন্য সমস্যাগুলো সমাধান হবে।

ইত্তেফাক/ ইআ