সিরাজগঞ্জে বেগুনের বাম্পার ফলন

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২২, ১৪:৪৮

সিরাজগঞ্জে এ বছর হাইব্রিড বেগুন চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় হাট-বাজারে বেচাকেনা হয় নানা জাতের বেগুন। দাম ভালো থাকায় হাসি ফুটেছে আবাদিদের। 

সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫’শ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষাবাদ করেছে কৃষকেরা। নতুন প্রযুক্তিতে হাইব্রিড লাভজনক এ বেগুন সারা বছরই চাষাবাদ হচ্ছে। চাষ বেশি হচ্ছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, কামারখন্দ, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে।   

এছাড়া জেলার অনান্য স্থানেও এই জাতের বেগুন চাষাবাদ করা হচ্ছে। প্রতিদিন কৃষকেরা জমি থেকে বেগুন তুলে আড়ৎসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষকেরা কম খরচে এ চাষাবাদে ঝুঁকছে। হাইব্রিড বেগুনের মধ্যে গ্রীনবল, শ্যামপুর জাতসহ বিভিন্ন ধরনের বেগুন চাষ বেশি হচ্ছে এবং ফলনও ভালো হচ্ছে। তবে হাট-বাজারে সাদা রঙ্গের বেগুনের কদর বেশি। স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, জমিতে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি সারা বছরই এ বেগুন চাষাবাদ করা হচ্ছে।    

সদর উপজেলা বহুলি গ্রামের কৃষক হায়দার আলী জানান, প্রতি বিঘা জমিতে এই জাতের বেগুনের চাষাবাদে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয় এবং উৎপাদন হয়ে থাকে ৪০ থেকে ৪২ মণ বেগুন। বেগুন চাষে এখন বাম্পার ফলন ও দাম ভালো থাকায় খুশি। এছাড়া বেগুন ক্ষেতে সাথী ফসল হিসেবে মিষ্টি সজসহ অনান্য ফসলও চাষ হয়ে থাকে। জেলা উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে এ বেগুনের আড়ৎও খোলা হয়েছে বছর ধরেই। আড়ৎদার ও ব্যবসায়ীরা এ বেগুন ক্রয় করে প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে।  

বর্তমানে বাজারে প্রতিমণ বেগুন পাইকারি দরে ১ হাজার টাকা থেকে ১১’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি খুচরা দামেও হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে হতদরিদ্ররা শহর বন্দরে সাইকেলে ঝাঁকা বেঁধে ও ভারে করে বেগুন বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছে।  

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আ জা মু আহসান শহীদ সরকার জানান, এ বছর  হাইব্রিড বেগুন চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ চাষাবাদে কৃষকদের পরামর্শও দেয়া হচ্ছে। বেগুনের বাজার ভালো থাকায় কৃষকেরা খুশি। এ লাভজনক চাষে কৃষকদের আরো উৎসাহিত করা হবে বলে তিনি জানান। 

ইত্তেফাক/এআই