উল্লাপাড়ায় ঘুমন্ত মেয়ে রাখা খাতুনকে (৭) হত্যার পর গলায় ফাঁসি দিয়ে বাবা রাজিব হোসেন (৪০) ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (১২ মার্চ) সকালে উপজেলার বাঙ্গালা ইউনিয়নের বিনায়েকপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাজিব উল্লাপাড়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিদর্শক। উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ দুপুরে মেয়ে ও বাবার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
গ্রামবাসী বরাতে পুলিশ জানায়, কিছুদিন ধরে রাজিব পারিবারিক গোলযোগের কারণে অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। শনিবার (১২ মার্চ) সকালে তার ৭ বছরের মেয়ে রাকা খাতুন শোবার ঘরের বিছানায় ঘুমাচ্ছিল। মা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইসমতআরা ওই সময় রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
তখন রাজিব ঘরের দরজা বন্ধ করে গামছা দিয়ে তার মেয়ের গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঘরের ধর্নার সঙ্গে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে তার পরিবার ও পার্শ্ববর্তী লোকজন ঘরের দরজা ভেঙে দেখেন মেয়েটির লাশ মেঝেতে পড়ে আছে। রাজিব ঝুলছিলেন ফাঁসি র দড়িতে। এ অবস্থা দেখে উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশকে তারা খবর দেয়। শনিবার (১২ মার্চ) দুপুরে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য বাবা ও মেয়ের লাশ দু’টি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
ওসি জানান, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের মুখ থেকে রাজিবের পারিবারিক গোলযোগের বিষয়টি শুনেছি। তবে এসব গোলযোগের সত্যতা বা তার মানসিক ভারসাম্য হারানোর কারণ পুলিশ তদন্ত না করে সঠিকভাবে বলতে পারবে না। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।’
