সন্তানদের যুদ্ধে পাঠাবেন না

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২২, ০৬:৩৯

ইউক্রেনে টানা ১৭ দিন ধরে সংঘাত চলছে। শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি রুশ মায়েদের প্রতি তাদের সন্তানদের ইউক্রেনে যুদ্ধে না পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এক আবেগপ্রবণ ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি রাশিয়ার মায়েদের আরো এক বার বলতে চাই বিশেষ করে চাকরিজীবী মায়েদের বলতে চাই আপনাদের সন্তানদের অন্য দেশে যুদ্ধের জন্য পাঠাবেন না। রুশ সরকার অনুশীলনের জন্য তাদের দেশের সেনা বা নাগরিকদের যুদ্ধে পাঠাচ্ছে।’

জেলেনস্কি রুশ সরকারের প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে জেলেনস্কির সঙ্গে শুক্রবার টেলিফোনে দীর্ঘ সময় কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

পাক্কা ৪৯ মিনিটের ঐ কথোপকথনে তিনি ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টকে বোঝাতে চেষ্টা করেছেন, রাশিয়াকে সাজা দিতে কী ব্যবস্হা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, বাইডেন-জেলেনস্কি এর আগে যত বার ফোনে কথা বলেছেন, সেগুলোর স্হায়িত্ব ছিল বড়জোর ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। কিন্তু ঐদিন তারা সবচেয়ে বেশি সময় কথা বলেছেন। এ সময় বাইডেন জেলেনস্কিকে জানিয়েছেন, ইউক্রেন আক্রমণের কারণে ক্রেমলিনকে সাজা দিতে রাশিয়ার সঙ্গে স্বাভাবিক বাণিজ্য সম্পর্কও স্হগিত করতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

জেলেনস্কি ও বাইডেন যখন ইউক্রেনের পরিস্হিতি নিয়ে ফোনালাপ করছেন, তখনো কিন্তু কিয়েভের অবস্হা ভালো না। রাশিয়ার যে সামরিক বহর কিয়েভের অভিমুখে ছিল তা এখন কিয়েভের বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে। বহরটির সদস্যদের বেশির ভাগই কিয়েভ সংলগ্ন বনাঞ্চল ও শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে। এমনটাই উঠে আসছে স্যাটেলাইট ইমেজে।

এ ঘটনায় ইউক্রেনের রাজধানী শহর অভিমুখে রুশ বহর নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সার টেকনোলজিসের সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে, ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও কামানের ৪০ মাইল দীর্ঘ কনভয় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কিয়েভের উত্তরে স্হবির থাকার পরে বেশির ভাগই কাছাকাছি শহর এবং বনাঞ্চলের দিকে চলে গেছে।

শুক্রবার এক গোয়েন্দা আপডেটে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ান সামরিক বাহিনী হয়তো আগামী দিনে নতুন করে আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্য তার বাহিনীকে পুনরায় ঢেলে সাজাতে চাইছে। নতুন অভিযানে সম্ভবত কিয়েভও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি অবশ্য বলছেন, এ বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে আসার সুযোগ নেই। তবে রুশ বহরের ওপর ইউক্রেনীয়দের হামলাকে তিনি একটি আত্মরক্ষামূলক অবস্হান হিসেবে বিবেচনার পক্ষপাতী। ‍বিবিসি

ইত্তেফাক/এসজেড