চার তদন্ত কমিটি

আগুন অন্তর্ঘাতমূলক কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১২, ১৯:৪০
আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এত বিপুল সংখ্যক প্রাণহানিতে সরকারও বিস্মিত। উঠেছে নানা প্রশ্নও। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ঘটনার পরদিন রবিবার চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চার সদস্যের কমিটি ৫০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও মাঠে নেমেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, ওই অগ্নিকাণ্ড অন্তর্ঘাতমুলক কিনা তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট অনেকে বলছেন, এর পেছনে আন্তর্জাতিক কিংবা স্থানীয় কোনো চক্রান্তও থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকার। কমিটির অন্য তিন সদস্যকে নিয়ে আজ সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে প্রায় তিন ঘন্টা অবস্থান করেন তিনি। তিনি বিকেলে ঢাকায় ফেরেন। সরেজমিন পরিদর্শনের পর ঢাকায় ফেরার পথে জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে মাইন উদ্দিন খন্দকার প্রথমেই বললেন, ঘটনাটি নির্মম, নির্মম। আমরা এখনো সন্দোহাতীত কোনো কারণ বের করতে পারিনি। পরণেই তিনি বলতে থাকেন, সব পুড়ে নি:শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে কাজ করতে হলে পুড়ে যাওয়া স্থাপনা সরাতে হবে। কী ভয়ানক ঘটনা-পুরো ভবনই ভস্মীভুত হয়ে গেছে। আমরা মানুষের চোখে হাজার প্রশ্ন দেখেছি। তিনি জানান, শর্ট সার্কিট বা ছুঁড়ে ফেলা বিড়ির টুকরো থেকে এই আগুন লেগেছিল কিনা কিংবা এটি অন্তর্ঘাতমূলক কি না তা আমরা খুঁজে দেখছি। আমরা কমপক্ষে ৫০ ব্যক্তিও সাক্ষ্য গ্রহণ করেছি আজ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি গঠন হয় গত রবিবার। ওইদিন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) মো: ছিদ্দিক উল্ল্যাহ ভুঁঞা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ জারি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ঢাকা উত্তরা শিল্পাঞ্চল পুলিশের মহাপরিচালক মো. আবদুস সালাম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আব্দুস সালাম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (অগি্ন) সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার। ওই আদেশ থেকে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কমিটির কর্মপরিধি (টার্মস অব রেফারেন্স) তিন বিষয়কে ঘিরেই চলবে। কমিটি প্রথমত: অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান ও একই সঙ্গে দায়ি ব্যক্তিদের শনাক্ত করবে, দ্বিতীয়ত: অত্যধিক মৃত্যুর কারণ কী তা বের করবে এবং তৃতীয়ত: এই ধরনের অগি্নকাণ্ড এড়াতে সুপারিশমালা তৈরি করবে কমিটি। কমিটি সুত্রে জানা গেছে, এই অগ্নিকান্ড কর্তৃপক্ষের অবহেলা, দুর্ঘটনা নাকি অন্তর্ঘাতমুলক সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে কমিটির হাতে আরো দুই সপ্তাহ রয়েছে। এর মধ্যে কারণ বের হবে বলে কমিটির সদস্যরা আশা প্রকাশ করেছেন। তদন্তে নামা গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প আন্তর্জাতিক একাধিক গোষ্ঠীর ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এ ঘটনা ঘটানো হতে পারে। এছাড়া তাজরিন গার্মেন্টের একজন কর্মকর্তা ও তার নিকট আত্মীয় বছরখানেক আগে সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন। এই বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার ব্রিগেড ও পুলিশের প থেকে যৌথভাবে আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে।