নেয়ামত উল্লাহ
মটর রেসিং গেমকে মনে করা হয় খেলার দুনিয়ায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ইভেন্ট। গতির এই প্রতিযোগিতায় পদে পদে লুকানো ঝুঁকি। হিসেবে একটু গোলমালই ডেকে আনতে পারে মৃত্যু, নিদেনপক্ষে অঙ্গহানি তো বটেই! কিন্তু এ রোমাঞ্চের নেশা যাদের একবার পেয়ে বসে, তাদের কি আর এসব ভয় দমিয়ে রাখতে পারে? এমনই এক রোমাঞ্চপ্রেমী দুঃসাহসী রেসার কারিব আহমেদ। মাহফুজুর রহমান তুষারের দেখানো পথ ধরে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে অংশ নিতে যাচ্ছেন ভারতের জেকে টায়ার ফর্মুলা ফোরের রেসে।
আপাতত ফর্মুলা ফোর দিয়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রাখলেও এখানেই থেমে থাকতে চান না কারিব। স্বপ্ন দেখেন ফেরারি, ম্যাকলারেন কিংবা রেড বুলদের হয়ে দাপিয়ে বেড়াবেন ফর্মুলা ওয়ানের সার্কিট। তবে এটা করতে হলে তাকে পাড়ি দিতে হবে অনেক পথ। প্রথমে ফর্মুলা ফোরের দীর্ঘ সংগ্রাম, এরপর ফর্মুলা টু এবং সবশেষে ফর্মুলা ওয়ান।
কারিবের গাড়িপ্রীতির শুরুটা সেই শৈশব থেকেই। বাবার গাড়ির ব্যবসা নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে এতে। ছেলেবেলায় একবার জাপান গিয়েছিলেন কারিব। কৌতূহল তাকে টেনে নিয়ে যায় সেখানের এক রেসিং প্রতিযোগিতায়। সেখানেই গতির নেশায় পেয়ে বসে তাকে। বাড়ি ফিরে ইন্টারনেট ঘেঁটে রেসিংয়ের আদ্যোপান্ত জানলেন তিনি। হয়ে গেলেন কিংবদন্তি মাইকেল শুমাখারের পাঁড় ভক্ত। কারিব জানান, জার্মান এই রেসারকেই নিজের আদর্শ হিসেবে মানেন তিনি।
২০১৬ সালে ঢাকার বসুন্ধরায় র্যালিক্রস চ্যাম্পিয়নশিপে ‘ডি’ গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ফর্মুলা ফোরে যাওয়ার কোনো প্রতিযোগিতা নেই। তাই ভারতের এফএমএসসিআই (ফেডারেশন অব মটর স্পোর্টস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া) থেকে রেসিং অনুমতিপত্র নেন তিনি। শেষ দুই বছরে প্রতি মাসে অনুশীলনের জন্য ভারতে গেছেন ২৪ বছরের এই রেসার। ব্যাঙ্গালোরের অ্যাভালঞ্চ রেসিং ক্লাবের পরীক্ষামূলক রেসে প্রথম হয়ে উত্তীর্ণ হন জেকে টায়ার ও এফএমএসসিআই এর উদ্যোগে অনুষ্ঠেয় সেদেশের জাতীয় রেসিং চ্যাম্পিয়নশিপে।
অ্যাভালঞ্চ ক্লাবের ট্রায়াল ট্র্যাকের ১১১ সেকেন্ডের রেকর্ড প্রায় ছুঁয়েই ফেলেছিলেন কারিব, রেস শেষ করেন দুই সেকেন্ড বেশি নিয়ে। এরই সুবাদে জুলাইয়ের শেষদিকে অনুষ্ঠেয় ভারতের জাতীয় রেসিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে যাবেন এই তরুণ। চারটি রেসের এই চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম তিনটি হবে তামিলনাড়ুর কোইমবাটোরের কারি মটর স্পিডওয়েতে, শেষটি হবে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র ফর্মুলা ওয়ান রেসের সার্কিট বুদ্ধ ইন্টারন্যাশনালে।
এই প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হওয়ার কারণে ইতোমধ্যেই অন্যান্য টুর্নামেন্টেও অংশগ্রহণের প্রস্তাব পেতে শুরু করেছেন কারিব। দুবাই রেসিং চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে প্রস্তাব পেলেও এর বিপুল ব্যয়ভার কিছুটা ভাবনায় রেখেছে তাকে। তবে তরুণ এই রেসার এখনই আশা ছাড়েননি, পৃষ্ঠপোষক জোগাড় করতে পারলে সেখানেও অংশ নেবেন বলে জানালেন তিনি।
বাংলাদেশে মটর রেসিংয়ের অবকাঠামোগত সুবিধা নেই। তার মধ্যে স্থানীয়ভাবে সহযোগিতার অভাবে কিছুটা আক্ষেপ আছে তার। সমপ্রতি ভারতের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অনুমতির কাগজপত্রজনিত কিছু সমস্যায় পড়লে পুরো ব্যাপারটা তাকেই সামলাতে হয়েছিল বলে জানান তরুণ এই রেসার।
