এফবিসিসিআইয় নির্বাচন

সমান উৎসাহ প্রার্থী ও ভোটারের

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১২, ১৯:৪৪
এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচনে ভোটারকে মারধরের ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেছিল কি-না মনে করতে পারেননি শনিবার মতিঝিলে জড়ো হওয়া ব্যবসায়ী ও তাঁদের নেতারা। তবু ওই একটি ঘটনা ছাড়া ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠনটির নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ আগাগোড়াই বিরাজ করছিল। প্রার্থীদের পক্ষ থেকে তেমন অভিযোগ শোনা যায়নি। এ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের উৎসাহের যে কমতি ছিল না, তার প্রমাণ তাদের অংশগ্রহণের অঙ্কেই রয়েছে। দুই হাজার একজন ভোটারের মধ্যে ১৭৯ জন আসতে পারেননি, শতাংশের হিসাবে যা ১০-এরও কম। নির্বাচন কমিশনও দাবি করেছে, কোনো ধরনের চাপ ছাড়া নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এফবিসিসিআইয়ের ২০১২-১৪ মেয়াদের নির্বাচনে ৩০টি পরিচালক পদে ৬৩ জন প্রার্থী লড়ছেন। মোট ৪৮টি পরিচালক পদেও ১৮টিতে ভোটের প্রয়োজন হয় না। এসব পদে সরাসরি মনোনয়ন দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভোট গণনা চলছিল। এই নির্বাচনে প্রায় ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে। চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের দুই হাজার একটি ভোটের মধ্যে এক হাজার ৮২২টি ভোট পড়ে। রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হয় ২৬ মিনিট দেরিতে। তা পুষিয়ে নিতে ভোট চলে বিকেল ৫টা ২২ মিনিট পর্যন্ত। সকাল থেকেই ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। বিকেল পর্যন্ত পুরোদমে ভোটগ্রহণ চলে। বিকেলে ভোটারদের চাপ বাড়ে। প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারের জন্য লিফলেট, হ্যান্ডবিল বিতরণে ক্লান্তি ছিল না সমর্থকদের। স্লোগানও শোনা গেছে মাঝেমধ্যে। পোশাকের বৈচিত্র্যেও প্রতিফলিত হয়েছে প্যানেলের পরিচিতি। আনিসুল হকের প্যানেলের সব প্রার্থী সাদা পাঞ্জাবি পরে এসেছেন। ব্যালটেও তাঁদের সাদা পাঞ্জাবির ছবি ছিল। ব্যালট বাঙ্ এবং প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের বসার স্থান নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান এবং নির্বাচনী বোর্ডের কর্মকর্তাদের বাদানুবাদ হয় সকালবেলা। এ কারণে ভোটগ্রহণ শুরু হতে ২৬ মিনিট দেরি হয়। সালমান এফ রহমান ভোটকেন্দে বেশিসংখ্যক প্রতিনিধি রাখার দাবি করেন। তিনি কাজী আকরাম উদ্দিনকে সমর্থন করছেন। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান ও সালমান এফ রহমান দীর্ঘ সময় ভোট কেন্দে অবস্থান করেন। তাঁরা কাজী আকরাম উদ্দিনের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন- আনিসুল হকের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের প্রার্থীদের কেউ কেউ এমন প্রশ্ন তুললেও নির্বাচনী বোর্ডে কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি। নির্বাচনী বোর্ডের প্রধান সংসদ সদস্য আলী আশরাফ বলেন, নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু হয়েছে। আমি কোনো চাপ অনুভব করিনি। আমার কথায় অনেকে চাপ অনুভব করতে পারেন। নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমি প্রার্থী ও ভোটারসহ সবার সহযোগিতা পেয়েছি। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে মনে করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের নেতা কাজী আকরাম উদ্দিনও। ভোটগ্রহণ শেষে তিনি বলেন, ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন। এর আগে আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি ভোটাররা উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিতে গিয়েছেন। স্বার্ধীনভাবে তাঁরা ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।' দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গণতান্ত্রিক পরিষদের নেতা আনিসুল হক ভোটগ্রহণ এলাকার রাস্তায় এলে বিপক্ষের প্রার্থীরা প্রতিবাদ করেন। তাঁদের আপত্তি- আনিসুল হক ভোটার নন, তাই তিনি সেখানে যেতে পারেন না। ওই সময় আনিসুল হক ফিরে আসেন। এ সময় তাঁর সমর্থক ভোটার আমির উদ্দিন বিপুকে মারধর করা হয় বলে বিপু দাবি করেন। বিপু পেপার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি। তিনি বলেন, তাঁকে যাঁরা মারধর করে তাদের পরনে ছিল এশিয়ান টেক্সটাইলের গেঞ্জি। এশিয়ান টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ কাজী আকরাম উদ্দিনের প্যানেলের প্রার্থী। পরে আনিসুল হক বলেন, তিনি নির্বাচনী এলাকার ভেতরে যাননি। বাঁশঘেরা এলাকার বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় এক ভোটারকে মারধর করা হয়। তিনি বলেন, এফবিসিসিআইয়ের মতো একটি বড় প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে কিছু ঘটনা ঘটতেই পারে। তিনি আরো বলেন, একজন সাবেক সভাপতি হিসেবে আমি সেখানে যেতেই পারি। তবে আইন ভঙ্গ করিনি। সাধারণ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত ও মনোনীত পরিচালকরাই আগামীকাল ২৬ নভেম্বর ঠিক করবেন- কে হবেন এফবিসিসিআইয়ের নতুন সভাপতি। একজন ভোটার সর্বোচ্চ ১৫ জনকে ভোট দিতে পারেন। অ্যাসোসিয়েশন ও চেম্বার গ্রুপের সদস্যরা নিজ নিজ গ্রুপের প্রার্থীদের ভোট দিতে পারবেন। দুটি প্যানেলের মধ্যে একটির নেতৃত্বে রয়েছেন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, যিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের পক্ষ থেকে মনোনীত হয়ে ইতিমধ্যে সংগঠনটির পরিচালক। তিনি সভাপতি প্রার্থী। অন্য প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষস্থানীয় সংগঠনের সাবেক সভাপতি আনিসুল হক, যদিও তিনি নিজে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। ৭৩টি ব্যবসায়ী চেম্বার ও ৩২৬টি অ্যাসোসিয়েশন এফবিসিসিআইয়ের সদস্য। অ্যাসোসিয়েশনে ভোটার সংখ্যা এক হাজার ৬১১। আর চেম্বারের ভোটার সংখ্যা ৩৯০। প্রতি দুই বছর পরপর এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন হয়। পর্যায়ক্রমে চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে প্রতি দুই বছর পরপর সভাপতি নির্বাচন করা হয়। পরিচালনা পর্ষদের মোট সদস্য ৪৮। তাঁদের মধ্যে ৩০ পরিচালককে সাধারণ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হতে হয়। নির্বাচিত ও মনোনীত পরিচালকরাই ২৬ নভেম্বর সভাপতি, প্রথম সহসভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচিত করবেন। ২৯ নভেম্বর নির্বাচিত পর্ষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে বর্তমান কমিটি।