সুপারিশ অগ্রাহ্যে পানিতে গেল ২০০ কোটি টাকা

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১২, ১৭:০৮
কর্ণফুলী পেপার মিলের (কেপিএম) বিস্নচিং প্ল্যান্ট আর কখনোই চালু হবে না। শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ না মেনে জাপান থেকে নিয়ে আসা প্ল্যান্টের জন্য এ অবস্থা হয়েছে। আর এতে করে সরকারের ২০০ কোটি টাকা পানিতে গেছে। এ কারণে কমিটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিকট কৈফিয়ত চেয়েছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলা হয়। কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ২০০ কোটি টাকার কাজ মোটেও ভালো হয়নি। জাপানের মারুবিনি করপোরেশনের তৈরি বিস্নচিং প্ল্যান্ট স্থাপনের ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের আরো বেশি যত্নবান হওয়ার দরকার ছিলো। কমিটি মনে করছে প্ল্যানটি কোনদিন চালু হবে না। তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটির সুপারিশের পরেও মন্ত্রণালয় প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এ কারণে সংসদীয় উপ-কমিটির সঙ্গে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে আবারো কেপিএম পরিদর্শনে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তারা গিয়ে দেখবে সংসদীয় কমিটির তদন্তে কোনো ত্রুটি ছিলো কিনা। এর আগে সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকের পর সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক সাংবাদিকদের নিকট বলেন, কর্ণফুলী পেপার মিলের বিস্নচিং প্ল্যান্ট নিয়ে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ কেন মানা হলো না তা নিয়ে মন্ত্রীর কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, উপ-কমিটির সুপারিশের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটি মারুবিনি করপোরেশনের পারফরমেন্স গ্যারান্টি বাতিল করার সুপারিশ করেছিলো। কিন্তু শিল্প মন্ত্রণালয় ডিসেম্বর পর্যন্ত মারুবিনিকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়। আর এ জন্যই কমিটি মন্ত্রণালয়ের নিকট কৈফিয়ত চেয়েছে। স্থায়ী কমিটির নিকট দাখিল করা উপ-কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সময়ই বিস্নচিং প্ল্যান্টের অধিকাংশ যন্ত্র নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত নকশাও যথাযথ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে পরিবর্তন করা হয়েছে। উপ-কমিটি গত ২২ সেপ্টেম্বর তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পটি বাস্তবতা বর্জিত। প্রকল্পের টেন্ডার ডকুমেন্ট ত্রুটিপূর্ণ। প্রকল্পের ব্যাপারে বিসিআইসি ও শিল্প মন্ত্রণালয় গাফিলতি ও উদাসীনতা দেখিয়েছে। প্রকল্পে ব্যবহার করা যন্ত্রপাতি পুরনো। অপরদিকে টাকা ছাড়ের ক্ষেত্রেও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। প্রকল্পে ২০০ কোটি টাকা অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে টাকা অপচয়ের কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। সে সাথে অনিয়ম তদন্তে দুদককে দায়িত্ব দেয়ারও সুপারিশ করেছে কমিটি। সংসদ সচিবালয় জানায়, বৈঠকে কমিটির সদস্যরা সারের মজুদ নিয়ে আলোচনা করেছেন। কমিটিকে অবহিত করা হয় বর্তমানে ছয় লাখ আট হাজার মেট্রিক টন সার রয়েছে। আসন্ন বোরো মওসুমে সারের কোন সংকট হবে না। সিঙ্গাপুরের সুইস কোম্পানি থেকে যে প্রক্রিয়ায় সার আমদানি করা হয়েছে তা সঠিক হয়নি। কমিটি মনে করছে সার আমদানির ক্ষেত্রে টেন্ডারের শর্ত পূরণ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা এই সারকে ব্যবহারযোগ্য হিসাবে নিশ্চয়তা দিলেও তারা বলেছেন, সারের কর্মক্ষমতা অন্য সারের তুলনায় অর্ধেক হবে। উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বর মাসে সিঙ্গাপুর থেকে সার আমদানি করা হয়। ইতোমধ্যে সারের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পাথর হয়ে গেছে। তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে গতকালের বৈঠকে কমিটির সদস্য শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী, মুহিবুর রহমান মানিক, আলী আসগর, মেরাজউদ্দিন মোল্লা, সুলতানা বুলবুল, জাহিদ মালেক ও কামাল আহমেদ মজুমদার অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।