দেশের পুঁজিবাজারের সংস্কারের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অর্থ পাওয়া যাবে এমন বিধান রেখে কঠিন শর্তে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সাথে ঋণ চুক্তি করলো বাংলাদেশ সরকার। গতকাল শেরেবাংলা নগরের ইআরডি সম্মেলন কক্ষে ৩০ কোটি ডলার বা প্রায় ২৪৫০ কোটি ডলারের তিনটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরির হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) জ্যেষ্ঠ সচিব ইকবাল মাহমুদ এবং এডিবি’র পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর তেরেসা খো ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এডিবি স্বাক্ষরিত এ তিনটি ঋণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে ২য় পুঁজিবাজার উন্নয়ন কর্মসূচীর জন্য ৩০ কোটি মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তা হিসেবে প্রদান করবে এডিবি। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার সহজ শর্তে এবং ৫ কোটি ডলার কঠিন শর্তে এবং সাড়ে ৯ কোটি ডলার ওসিআর (অর্ডিনারি কেপিটাল রিসোর্স) ঋণ রয়েছে। পলিসি সংক্রান্ত কতিপয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে দুই কিস্তিতে এ ঋণ পাওয়া যাবে। এ কর্মসূচীর আওতায় প্রাপ্য সহজ শর্তের ও কঠিন শর্তের উভয় ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ৮ বছর রেয়াতী কালসহ ২৪ বছর। সুদের হার রেয়াত কালে ১ শতাংশ এবং পরবর্তী সময়ে দেড় শতাংশ। অন্যদিকে ওসিআর ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ৩ বছর রেয়াতীকালসহ ১৫ বছর। লাইবর রেট ভিত্তিক (সর্বশেষ আন্তব্যাংক লেনদেন হার) এবং অব্যয়িত অর্থের জন্য কমিটমেন্ট চার্জ বা অঙ্গিকার ফি দিতে হবে দশমিক ১৫ শতাংশ।
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে জ্যেষ্ঠ সচিব ইকবাল মাহমুদ জানান, এডিবির শর্ত অনুযাযী দুটি বিল পাশ করা হয়েছে (সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স এবং ভ্যাট আইন)। আরো কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই ঋণের অর্থ পাওয়া যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পূর্বেও দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে এডিবি সহায়তা দিয়েছিলো এবং সে ঋণের ফলাফলও সন্তোষজনক।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ কর্মসূচির উদ্যোগী বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। কর্মসূচির মেয়াদ হবে ২০১৪ সালের ৩০ জুন।
এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর তেরেসা খো বলেন, দীর্ঘ মেয়াদী উন্নয়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগের উন্নয়নে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দক্ষতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
এ ঋণের আওতায় পুঁজিবাজারের ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন, বন্ড মার্কেট, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) শক্তিশালীকরণ এবং ইন্স্যুরেন্স খাতকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
