টানা ৮দিন শেয়ারবাজারে দরপতনের পর গতকাল সূচকের বড় উল্লম্ফন হয়েছে। দর বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের। তবে লেনদেন এখনও খুব কম। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিক্রির চাপ কম থাকায় সূচক বেড়েছে। তাছাড়া বাজারে অব্যাহত দরপতন রোধে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) তত্পরতায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে। তাই বিক্রির চাপ কমেছে। তবে বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেরকে বাজারে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। ডিএসই ও সিএসই এ জন্য যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা অব্যাহত রেখে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেরকে বাজারে ফিরিয়ে আনলে বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও ফিরে আসবে।
ডিএসই’র দেয়া তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসই’র সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ২১৯ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ২১০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই- ২০ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ৩ হাজার ৪১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাজারে মোট ২৭১টি কোমপানির ৯ কোটি ২১ লাখ ৬৪ হাজার ২৪১টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের হাতবদল হয়েছে।
তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসই’তে মোট লেনদেন হয়েছে ৩৩৬ কোটি ৪৩ লাখ ৩১ হাজার ২৩৪ টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে ১৪৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনকৃত ২৭১টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২৬৬ টির, কমেছে ৩ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২ টি কোম্পানির শেয়ারের।
লেনদেনের ভিত্তিতে ডিএসই’র প্রধান ১০টি কোমপানি হলো-ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, ইউনিক হোটেল, বিএসসিসিএল, যমুনা অয়েল, ন্যাশনাল ব্যাংক, আর এন স্পিনিং, মালেক স্পিনিং, তিতাস গ্যাস, বেক্সিমকো ও সিএমসি কামাল। দর বৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কোমপানি হলো-আমরা টেকনোলজি, বিএসসিসিএল, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউনিক হোটেল, ওয়ান ব্যাংক, বীচ হ্যাচারী, ইউসিবিএল, সমরিতা হাসপাতাল, মডার্ন ডাইয়িং ও প্রাইম লাইফ ইন্সুরেন্স।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ
গতকাল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৬৭৩ পয়েন্ট বেড়ে ১২ হাজার ৮১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসই-৩০ মূল্যসূচক ৫৭৩ পয়েন্ট বেড়ে ১০ হাজার ৯৫০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাজারে লেনদেন হয়েছে ৪৪ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৬৩ টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে ১৯ কোটি ৬৫ লাখ ৭৬ হাজার ২২৩ দশমিক ১৫ টাকা বেশি। লেনদেনকৃত ১৮০টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭০টির, কমেছে ৮টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২টির শেয়ারের দাম। এদিন সিএসইতে হাতবদল হয়েছে মোট ১৮০টি কোমপানির ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৭ হাজার ৪০৩টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।
