যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের জন্য মন কাঁদে

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৩০

আরাকান থেকে আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন থেকে কাশ্মীর, সিরিয়া থেকে ইয়েমেন, দেশগুলোতে চলছে যুদ্ধ। অস্ত্র আর পেশীশক্তির জঘন্য এক খেলা শুরু হয়েছে পুরো বিশ্বে। এসব খেলায় শিশুরা হচ্ছে বলির পাঁঠা। অনেক দেশে যুদ্ধ থেমে গেলেও তার বিন্দুমাত্র রেশ কাটেনি শিশুদের ওপর থেকে। শিশুদের দিন কাটছে খাদ্য সংকটের মধ্যে। অকালে প্রাণ যাচ্ছে অনেকের। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে আমাদের ওপর নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছিল পাক-হানাদাররা। শিশুরা হয়ে ছিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। শিশুদের হত্যার জঘন্য খেলায় মেতে উঠেছিল তারা। শরণার্থী শিবিরে অনাহারে-অর্ধাহারে হাজার হাজার শিশু প্রাণ হারিয়েছিল।

সন্ত্রাস দমনের নাম করে মোড়ল দেশগুলো ইয়েমেনে বিমান হামলা চালায় স্কুলগামী বাসের ওপর। ইয়েমেনি শিশুদের মধ্যে রোগ-বালাইয়ের সংক্রমণ তীব্র হয়েছে। সুপেয় পানির অভাবে পানিবাহিত রোগগুলো এখন প্রকোপ। অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে অনেকের। ক্ষুধার্ত  ইয়েমিনি শিশুরা এখন কাঁদতেও ভুলে গেছে!

দেড়যুগ ধরে আফগানিস্তানে চলছে গৃহযুদ্ধ। আর এই যুদ্ধে শিশুদের অবস্থা খুব করুণ। গতবছরে সহিংসতায় প্রায় ৯শর বেশি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ১১ বছর বয়সী যুদ্ধবিধ্বস্ত এক শিশু সোমা সাংবাদিকদের বলে, ‘আমি চাই বিশ্বের ক্ষমতাসীন নেতারা যেন যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি আনে, কারণ আমি চাই না আমার মতো অন্যরা তাদের বাবাকে হারাক।’

যুদ্ধ চলছে সিরিয়াতেও। সেখানেও শিশুদের অবস্থা বেশ গুরুতর। কিছুদিন আগে সিরিয়ায় রাসায়নিক বোমা ফেলা হয়। যার ফলে সৃষ্ট শ্বাসকষ্টে বহু লোক মারা যায়, যাদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা নেহাত্ কম ছিল না। মারা যাবে জেনেও নিজের অক্সিজেনের নলটা ছোট ভাইয়ের মুখে লাগিয়ে দুচোখ খোলা রেখে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল এক কিশোরী। এমন এক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। নাড়া দিয়েছিল বিশ্ব বিবেককে।

ইসরাইলি আগ্রাসন ফিলিস্তিনি শিশুদের সুষ্ঠু বিকাশে প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল অব ফিলিস্তিন’ নামের এক সংস্থার পরিসংখ্যান বলছে, ‘২০১৮ সালে অন্তত ৫৬টি ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরাইলি সৈন্যরা।’ অন্য আরেকটি পরিসংখ্যান বলছে, ‘২০০০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে মোট ১৪ বছরে ইসরাইলি সৈন্যরা তিনদিনে একটি শিশুকে হত্যা করেছে।’ এছাড়া ফিলিস্তিনি শিশুদের গণগ্রেফতার এখন স্বাভাবিক ঘটনা। রাখাইনে চলমান সহিংসতার ফলে প্রায় দশলাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রাণভয়ে আশ্রয় নিয়েছে। যারমধ্যে কয়েক লাখ শিশু রয়েছে। মিয়ানমার সেনাকর্তৃক নির্যাতিত শিশুগুলো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ইউনিসেফের রিপোর্ট বলছে, ‘ডায়রিয়া, ডিপথেরিয়া, কলেরাসহ প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত ৭৫ শতাংশ শরণার্থী শিবিরে থাকা ১৫ বছরের নিচে রোহিঙ্গা শিশু।’

শিশুরা শান্তিপ্রিয়। শিশুরা শান্তি ভালোবাসে। ভালোভাবে বাঁচতে চায়। কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের দ্বারা সৃষ্ট যুদ্ধ শিশুদের শান্তি কেড়ে নিচ্ছে। কেড়ে নিচ্ছে তাদের সোনালি শৈশব। ছোট্ট একটা দেশের ছোট্ট শহরে থেকেও যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের জন্য মন বড্ড কাঁদে।

n লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়