রক্ষণাবেক্ষণ ও যথাযথ সংস্কারের অভাবে জেলার বানিয়াচং উপজেলার বিথঙ্গল গ্রামের প্রাচীন আখড়াটি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আখড়ার বিশাল ইমারতগুলোর নির্মাণ শৈলী সহজেই মানুষকে আকৃষ্ট করে। এগুলো এখন জীর্ণ হয়ে গেছে। যে কোনো সময় ধসে যেতে পারে। এভাবে অনেক দর্শনীয় বস্তু নষ্ট হয়ে গেছে।
বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম এ তীর্থ ক্ষেত্রটির প্রতিষ্ঠাতা রামকৃষ্ণ গোস্বামী। তিনি হবিগঞ্জের রিচি পরগনার অধিবাসী ছিলেন। তরুণ বয়সে তিনি উপমহাদেশের বিভিন্ন তীর্থ স্থান ভ্রমণ করে শেষে বিথংগল এসে এই আখড়া প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলা ১০৫৯ সনে রামকৃষ্ণ গোস্বামী দেহত্যাগ করেন। আখড়ায় রামকৃষ্ণ গোস্বামীর সমাধিস্থলের উপর একটি সুদৃশ্য মঠ আছে। মঠের সামনে একটি নট মন্দির, পূর্ব দিকে একটি ভাণ্ডার ঘর এবং দক্ষিণে একটি ভোগ মন্দির রয়েছে। আখড়ায় দর্শনীয় বস্তুর মধ্যে আরো আছে ২৫ মণ ওজনের শ্বেত পাথরের চৌকি, পিতলের সিংহাসন, রথ, রৌপ্য নির্মিত পাখি, মুকুট ইত্যাদি।
কথিত আছে আখড়ায় বসবাসকারী ১২০ জন বৈষ্ণবের জন্য ১২০টি কক্ষ ছিল। আরো কথিত আছে আগরতলার মহারাজা উছবানন্দ মানিক্য বাহাদুর প্রতিবছর তার রাণীসহ আখড়ায় এসে কয়েকদিন থাকতেন।
আখড়া ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি অর্থে আখড়ার যে সংস্কার কাজ হয়েছে তা অপ্রতুল ও নিম্নমানের। সংস্কার কাজ করতে গিয়ে আখড়ার প্রাচীন সৌন্দর্য অনেক জায়গায় নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। এতে আখড়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব হারিয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন অনেকে।
আখড়ায় পালিত উত্সবাদির মধ্যে আছে কার্তিক মাসের শেষ দিন ভোলা সংক্রান্তি কীর্তন, ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দোল পূর্ণিমার পাঁচ দিন পর পঞ্চম দোল উত্সব। চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে ভেড়ামোহনা নদীর ঘাটে ভক্তগণ স্নান করেন। স্নানঘাটে বারুণীর মেলা ও আষাঢ় মাসে দ্বিতীয় রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি উত্সবে হাজার হাজার ভক্ত যোগদান করেন। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এলাকাবাসী প্রতিদিন রোগবালাই হতে পরিত্রাণের আশায় আখড়ায় এসে মোহন্তের কাছ থেকে আশীর্বাদ নিয়ে যায়। আখড়ার বর্তমান মোহন্ত সুকুমার দাস জানান, আখড়ার নিজস্ব ৪০ একর জমির উত্পাদিত ফসল ও ভক্তদের দানে উপজেলা ও জেলা সদরের সঙ্গে বিথঙ্গলের উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে দর্শনার্থীদের প্রাচীন এই আখড়া পরিদর্শন করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হন বলে তিনি জানান। বর্ষাকালে জেলা সদর হতে ইঞ্জিন নৌকাযোগে দেড় ঘন্টায় বিথঙ্গল যাওয়া যায়। তবে শুকনো মৌসুমে আখড়ায় যাওয়া অনেক কঠিন।
