নাটোরের লালপুর উপজেলা স্টেডিয়াম মাঠে এখন শুধুই কাশফুল ও উলুবন। ৬ বছর আগে প্রায় আড়াই কোটি টাকা টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্টেডিয়াম মাঠটি সংস্কারের অভাবে কোন কাজেই আসছে না।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গোপালপুর-লালপুর সড়কের পাশে বৈদ্যনাথপুরে ৫ একর জমির ওপর অবস্থিত লালপুর উপজেলা স্টেডিয়াম। ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর তত্কালীন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করেন। জমির মূল্য বাদে একতলা প্যাভিলিয়ন ভবন ও পূর্ণাঙ্গ গ্যালারি বিশিষ্ট এই স্টেডিয়ামটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ২ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭’শ টাকা। সমপ্রতি স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটক দিয়ে স্টেডিয়াম মাঠ পর্যন্ত প্রায় ২০০ ফুট রাস্তার দুুধারে রাশি রাশি কাশফুল। ঘন কাশফুলে আড়াল হয়ে আছে স্টেডিয়াম প্যাভিলিয়ন ভবনের নাম ফলক। স্টেডিয়ামের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে গ্যালারির বাইরের সমস্ত এলাকা জুড়ে ৬/৭ ফুট উঁচু ঘন কাশফুল। স্টেডিয়ামের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা গেল সেখানে স্থানে স্থানে রয়েছে কাশফুল আর বেশিরভাগ এলাকা জুড়ে রয়েছে উলুবন। খেলাধুলার কোন পরিবেশই সেখানে নেই। স্টেডিয়ামের নৈশ প্রহরী শফিকুল ইসলাম জানান, স্টেডিয়ামের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্টেডিয়াম উদ্বোধনের প্রায় এক বছর পর তত্কালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার পারিশ্রমিক হিসাবে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। তার পর থেকে তিনি কোন বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। তারপরও জাতীয় সম্পদ হিসাবে স্টেডিয়ামটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চালিয়ে আসছেন তিনি। মাঝে-মধ্যে তিনি নিজ উদ্যোগে স্টেডিয়ামের উলুবন পরিষ্কার করেন। কিন্তু ক’দিন যেতে না যেতেই আবার তা গজিয়ে উঠে পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়।
এলাকাবাসী জানান, স্টেডিয়াম উদ্বোধনের পর প্রথম দু’এক বছর সেখানে খেলাধুলা চলে। জাতীয় দিবসগুলোতেও সেখানে খেলাধুলা হয়েছে। পরবর্তীতে আনন্দ মেলার নামে মাসব্যাপী যাত্রা ও সার্কাসের জন্য ব্যবহারের পর আর মাঠটি সংস্কার করা হয়নি। ফলে বছরের পর বছর অব্যবহূত থাকায় সেখানে কাশফুল ও উলুবন জন্মেছে।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আশফাকুল হোসেন রিমন জানান, উপজেলা স্টেডিয়ামটি সংস্কারের অভাবে খেলাধুলার অযোগ্য হয়ে আছে। সংস্থার নিজস্ব কোন তহবিল না থাকায় অর্থাভাবে কোন খেলাও পরিচালনা করা হয় না। লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি আব্দুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, মাঠটি সংস্কার করার জন্য লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজন। সে টাকার বরাদ্দ নেই।
