লবণাক্ততার মাঝেও দাকোপে আমনের বাম্পার ফলন

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১২, ২২:১৩
দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকা খুলনার দাকোপের মাঠে মাঠে এখন সোনালী ধানের সমারোহ। মাটির লবণাক্ততা উপেক্ষা করে কৃষকেরা আমন চাষ করেছেন। আশার চেয়ে বেশি জমিতে আমন চাষ করে বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটে হাসি। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আর কয়েকদিন বাদেই শুরু হবে কৃষকের স্বপ্নের পাকা আমন ধান কাটার উত্সব। ধান মাড়াই, বাছাই আর শুকানোর কাজ নিয়ে মেতে উঠবে এখানকার কৃষক পরিবারগুলো। সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামল বাংলার চিরচেনা সেই অপরূপ রূপে সেজে আছে দাকোপের গ্রামের পর গ্রাম। পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে আছে সকল কৃষকের আশা-আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্ন নিয়ে। নিজ হাতে বোনা স্বপ্নের ধান ক্ষেত বাতাসে দুলছে আর কৃষক-কৃষাণির মন যেন খুশিতে নেচে উঠছে। উপজেলার বাজুয়া গ্রামের তৈয়বুর রহমান সরদার, রনজিত রায়, দেবপ্রসাদ গাইন, রথিকান্ত রায় প্রমুখ কৃষক জানান, ইরি-২৩ জাতের ধানের মত এত বেশি ফলন গত ৩০ বছরেও দেখা যায়নি। এবার বৃষ্টি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সূত্র মতে, আর কয়েকদিন পরই তাদের এলাকায় ধান কাটা শুরু হবে। আগাম জাতের কিছু ধান ইতিমধ্যে কাটা শুরু হয়েছে। একই গ্রামের মান্দার মন্ডল জানালেন, আমন উত্পাদনে খরচ বোরোর তুলনায় কম। কারণ হিসাবে তিনি জানান, আমনে বোরো চাষের মত বেশি সার ও সেচ দিতে হয় না। পরিমাণ মতো বৃষ্টি হলেই আমন ফসল ভাল পাওয়া যায়। মণপ্রতি বোরো ধান চাষে খরচ হয় যেখানে ৪শ’ টাকা থেকে ৫শ’ টাকা সেখানে আমন চাষে মণপ্রতি খরচ হয় ২ থেকে ৩ শ টাকা। এ ছাড়া এলাকার অনেক কৃষক ধান ক্ষেতের আইলের উপর শীতকালীন সবজি লাউ, ফুল কপি, বাঁধা কপি, বেগুন, মরিচ, লাল শাক, টমেটো প্রভৃতি উত্পাদন করে বাড়তি আয়ের উত্স তৈরি করে নিয়েছেন। সরজমিন দেখা যায়, কৃষকদের ঈদ এবং পূজা পার্বন উত্সব সম্প্রতি শেষ হয়ে গেছে। এখন তারা ধান কাটার উত্সবে মেতে উঠার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ধান মাড়ানোর উঠান তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক-কৃষাণিরা। মাঠ থেকে পাকা ধান কেটে কবে বাড়িতে আনবেন সেটাই এখন তাদের চিন্তা। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দাকোপে ১৭ হাজার ৬শ ৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে চাষ হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে।