গুপ্ত হামলা না চালিয়ে দিনক্ষণ ঠিক করে রাস্তায় নামুন :মতিয়া চৌধুরী

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১২, ২২:৩৪
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেতা দেশে জরুরি অবস্থা জারির যে আশংকা করছেন তার কোন ভিত্তি নেই। বর্তমান সরকারের অধীনে যেহেতু প্রায় ছয় হাজারের অধিক নির্বাচনে জরুরি অবস্থার প্রয়োজন ছিল না, কাজেই আগামী নির্বাচনেও জরুরি অবস্থার প্রশ্নই ওঠে না। পুলিশের ওপর সাম্প্রতিক গুপ্ত হামলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াত-শিবিরের উদ্দেশে তিনি বলেন, গুপ্ত হামলা না চালিয়ে দিনক্ষণ ঠিক করে রাস্তায় নামুন। নিজেদের শক্তির পরীক্ষা করুন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে শহীদ নূর হোসেন চত্বরে আওয়ামী যুবলীগ ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) আয়োজিত গণমিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মতিয়া চৌধুরী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এখন অতীত। সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। আর বিএনপিকে সেই নির্বাচনে অংশ নিতেই হবে। বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। কিন্তু বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে এই ডিসেম্বর মাস জুড়ে কর্মসূচি দিয়েছেন। জামায়াতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক জিয়াউর রহমানের সময় থেকে। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখলের পরে ২২ হাজার যুদ্ধাপরাধীকে কারাগার থেকে মুক্তি দেন। গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে আনেন। একাত্তরের ঘাতকদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করেন। তার স্ত্রী খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতায় এসে দেশে জঙ্গি হামলা চালিয়েছেন। লুটপাট করে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছেন। খালেদা জিয়া জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন। তার ছেলে তারেক-কোকোর দুর্নীতি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, সাহস থাকলে আপনার ছেলেদের আমেরিকায় যেতে বলুন। দুর্নীতি করেছে কিনা তার প্রমাণ হবে। যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি, ওয়াহিদুল আলম আরিফ প্রমুখ। সমাবেশ শেষে বিশাল গণমিছিলটি শহীদ নূর হোসেন চত্বর থেকে শুরু হয়ে পল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল, মৌচাক, মগবাজার হয়ে বাংলামটর গিয়ে শেষ হয়।