নিহত শ্রমিক পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছে বিজিএমইএ

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১২, ২২:৩৬
সাভারের আশুলিয়ায় গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। বিজিএমইএ সদস্যরা নিজেরা নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের দায়িত্ব নেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। ইতিমধ্যে ৩৫ জনের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। বিজিএমইএ’র তত্ত্বাবধানে বাকিদের দায়িত্ব বণ্টন করা হবে। তত্ত্বাবধান করবে বিজিএমইএ। সেই সঙ্গে আহত শ্রমিকদের উন্নত চিকিত্সা দেয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের বিদেশে নেয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিজিএমইএ কার্যালয়ে এক জরুরি সাধারণ সভায় সংগঠনের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এই ঘোষণা দেন। সাধারণ সভায় তাজরীন গার্মেন্টস কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। এজিএম শেষে তিনি কারখানাটির শ্রমিকদের চলতি মাসের বেতন বাবদ ৭৪ লাখ টাকা বিজিএমইএ সভাপতির কাছে হস্তান্তর করেন। আগামীকাল শনিবার বিজিএমইএ’র তত্ত্বাবধানে শ্রমিক-কর্মকর্তাদের এই টাকা পরিশোধ করা হবে। তৈরি পোশাক শিল্পের ইতিহাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভয়াবহ এই হতাহতের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই জরুরি সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়। এতে শতাধিক গার্মেন্টস মালিক উপস্থিত ছিলেন। আশুলিয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় বিজিএমইএ সভাপতি ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারসহ দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে চাই। ভুল শুধরাতে চাই। ভালো কাজের মাধ্যমে আমাদের হারানো গৌরব ফিরে পেতে চাই। গণমাধ্যমে এই ঘটনায় তাদেরকে দায়ী করে বাছ-বিচারহীন বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পোশাক শিল্পের চলমান ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিদেশি বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। এই টাস্কফোর্সের সুপারিশ বিজিএমইএভুক্ত কারখানার ক্ষেত্রে কঠোরতার সাথে বাস্তবায়ন করা হবে। কমপ্লায়েন্স (কর্মপরিবেশ) যারা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবে না তাদের বিজিএমইএ সেবা দিবে না। প্রয়োজনে তাদের কারখানা বন্ধ করে দেয়া হবে। এছাড়া কেন্দ তা সংরক্ষণ করা হবে। শুরুতে আশুলিয়ায় এটি জরুরি ভিত্তিতে চালু করা হবে। এছাড়া জুরাইনে পরিচয়হীন ৫২ লাশের সংরক্ষিত ডিএনএ থেকে তাদের পরিবারের কাছে ঐ সব কবর বুঝিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেন। মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হয় কমপ্লায়েন্সসহ প্রতিষ্ঠান চালান, নয়তো ছেড়ে চলে যান। আলোচনায় অংশ নিয়ে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাসহ সার্বিক নিরাপত্তা আরো জোরদার করতে বিভিন্ন পরামর্শ দেন শিল্প মালিকরা। এছাড়া সবাই এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান। তাদের অনেকে গণমাধ্যমের একপেশে সমালোচনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গণমাধ্যমের এই একপেশে সমালোচনায় (তাদের ভাষায়) পরিবার ও সমাজের কাছে হেয় হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।