মা ও মেয়ের সন্ধানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে এসেছিলেন তিন স্বজন। তাদের ডিএনএ পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। রংপুর কাউনিয়ার রাজু ইসলাম (২০) ও তার মা রাহেনা (৪০) আশুলিয়ার তাজরীন গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় মা ছেলের হাত ধরে ৬ তলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামতে ছিল। তৃতীয় তলায় এসে অন্ধকার ও ধোঁয়ার মধ্যে রাজুর হাত থেকে এক পর্যায় তার মা আলাদা হয়ে পড়েন। রাজু বের হয়ে আসতে পারলেও মা রাহেনা আর ফিরে আসেননি। খোঁজা-খুঁজি করে মায়ের লাশ শনাক্ত করতে পারেনি রাজু। অবশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ফরেনসিক বিভাগে ডিএনএ ল্যাবে রাজুর দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরিচয়হীন জুরাইন কবরস্থানে দাফনকৃত ৫৩ জনের মধ্যে তার মায়ের লাশ থাকতে পারে। ৫৩ জনের নমুনা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সংগৃহীত রয়েছে। রাজুর ডিএনএর সঙ্গে এ সব ডিএনএ মিলিয়ে দেখবে তার মায়ের লাশ রয়েছে কিনা। সাড়ে সাত বছরের শিশু রুমি আকতার তার পিতার সঙ্গে এসেছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে। এ শিশুর মা তাজরীন গার্মেন্টসের শ্রমিক নাজমা বেগম। ঘটনার পর থেকে তার মা নিখোঁজ রয়েছে। গতকাল শিশুটির দেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কিশোরগঞ্জের বকুল মিয়া এসেছেন কন্যা সুমার (১৬) খোঁজে। ঘটনার দিন থেকে তার কন্যা নিখোঁজ। বকুল মিয়ার দেহ থেকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ডিএনএ ল্যাবের প্রধান ড. শরীফ আকতারুজ্জামান বলেন, এ পর্যন্ত তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
