বছর দেড়েক আগে লোকালয়ে ঢুকে পড়া একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে যে গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, তাদেরই একজন বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারালেন। সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন গহীন সুন্দরবনের নুসোখালি খালে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুস সাত্তার কারিগর (৪৬)। পেশায় জেলে সাত্তার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন গোলাখালী গ্রামের মৃত সুরাত আলীর ছেলে। সাত্তারের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, বনবিভাগের কৈখালী স্টেশন থেকে বৈধ পাস নিয়ে আব্দুস সাত্তার তার দুই ভাতিজা মিরাজ ও সিরাজুলকে নিয়ে গতকাল ভোরে সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে যান। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বনের মামুন্দ নদীর নুসোখালী খালে কাঁকড়া ধরার সময় হঠাত্ একটি বাঘ সাত্তারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে ধরে টেনে-হিঁচড়ে বনের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বাঘের থাবায় সাত্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এ সময় মিরাজ ও সিরাজুল তাদের হাতে থাকা গরানের লাঠি দিয়ে বাঘের উপর হামলা চালান। এক পর্যায়ে বাঘটি গুরুতর আহত সাত্তারকে ফেলে বনে পালিয়ে যায়।
পরে সঙ্গীরা সাত্তারকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) তৌফিকুল ইসলাম বাঘের হামলায় একজন নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের মার্চ মাসে গোলাখালী গ্রামে একটি বাঘ পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় সাত্তার কারবারিসহ আরও কয়েকজন গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে বন বিভাগের করা মামলার এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
