কেরানীগঞ্জে স্কুলছাত্র পরাগ মন্ডল অপহরণ মামলার প্রধান আসামি মোক্তার হোসেন ওরফে আমীরকে জিজ্ঞাসবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তাজুল ইসলাম এই আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানার পরির্দশক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম ১২ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আমীরকে আদালতে হাজির করেন। রিমান্ডের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আনোয়ারুল কবীর বাবুল আদালতকে বলেন, পরাগ অপহরণের ঘটনার মূল নায়ক আমীর। তার পরিকল্পনাতেই পরাগকে অপরহণ করা হয়েছিল।
অপরদিকে আমীরের পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিচারক তাকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে কিছু বলার জন্য আদেশ দেন। এ সময় আমীর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন। তিনি আদালতকে বলেন, আমি এখনও সুস্থ নই। অথচ জোর করে আমাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, চিকিত্সকের সার্টিফিকেট পাওয়ার পরই আমীরকে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
পরাগকে অপহরণের ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করে আমীরের সহযোগী মামুনকে। আর র্যাব গ্রেফতার করে ছয় জনকে। এরা হচ্ছে জাহিদুল হাসান, আলী ওরফে রিফাত, কালা চাঁন, আলফাজ, রিজভী আহমেদ অনিক ও আবুল কাশেম। এদের মধ্যে জাহিদুল, কালা চাঁন ও আলী ওরফে রিফাত অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। ২৪ নভেম্বর গাজীপুর সদরের মুদাফা তিলারগাতি এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের পর একটি বাড়ি থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আমীরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
এ দিকে পরাগ অপহরণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত শুভাঢ্যা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি আমিনুল হক ওরফে জুয়েল মোল্লা ও মামুনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত পরাগ মন্ডল অপহরণের ঘটনায় মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
