ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মন্তব্য

স্বল্প মজুরি ও নিম্ন কাজের পরিবেশ গার্মেন্টসে আগুনের কারণ

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১২, ২২:৪৩
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক মন্তব্যে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কম মজুরি ও নিম্নকাজের পরিবেশের কারণে গার্মেন্টস শিল্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সম্পাদকীয় পাতার লেখক স্টার্নবার্গের লেখা মন্তব্যে বাংলাদেশের শিল্প ব্যবস্থা, গার্মেন্টস খাতের বিকাশ, সুযোগ-সুবিধা ও শ্রমিকদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরা হয়েছে। মন্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত বছরে ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছে যা মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ। বাংলাদেশের একমাত্র উল্লেখ করার মতো শিল্পখাতই হচ্ছে পোশাক। এ পোশাক শিল্প নতুনভাবে বিকশিত হচ্ছে তা নয় বরং এটি তিন দশক ধরে অকার্যকর ও অদক্ষভাবেই এগিয়ে চলেছে। এর পারস্পরিক কোনো শিল্প গড়ে তোলার চেষ্টাও দেশটিতে দেখা যায়নি। আবার পোশাক শিল্পের বিকাশের নীতির কারণে অন্য শিল্পখাতের উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মন্তব্যে বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান, শীলংকার চেয়ে বাংলাদেশের কার্যকর শুল্কের হার অনেক বেশি। তবে একমাত্র গার্মেন্টস শিল্প এর আওতামুক্ত। এ কারণেই এ খাত ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের সফল খাতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু অন্য শিল্পের বিকাশে একই ধরনের সমর্থন ও সহযোগিতা দেয়া হয়নি। ফলে অন্য শিল্প বিকশিত হতে পারেনি। গার্মেন্টস শিল্পের ক্ষেত্রে সুতা ও অন্যান্য মেশিনারি আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করা হয়। কিন্তু অন্য শিল্পের উদ্যোক্তাদের কাঁচামাল ও মেশিন আমদানির জন্য উচ্চ শুল্ক দিতে হয়। এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ এমন একটি রাক্ষুসে শিল্পখাত তৈরি করেছে যা সরকারকে গিলে খাওয়ার হুমকিতে পরিণত হয়েছে। অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, একটি দুর্বল সরকার ও একটি বৃহত্ শিল্প একই ভাগ্যের সীমারেখায় এসে দাঁড়িয়েছে। যদিও এখন পরিবর্তনের কথা উঠছে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরের গুরুত্ব এবং জাতীয় অর্থনৈতিক বিবেচনায় কারখানার নিরাপত্তা এবং মজুরির ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনার জন্য দেশটিতে কথা উঠছে। বাংলাদেশের এ ধরনের পরিস্থিতি সহ্য করার কারণে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে তিরস্কার করছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনগুলো। যদিও এসব ক্ষোভ ভুল জায়গায় জানানো হচ্ছে। শ্রমিকদের দুরবস্থার জন্য বিশ্বায়নকে দায়ী না করে বরং বিশ্বায়নের মাধ্যমে সৃষ্ট অধিক বিনিয়োগকারী, আরো শিল্প ও সুযোগ গ্রহণের চেষ্টা করতে হবে।