নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রাক্তন সৈনিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের পরিচালকদের বিরুদ্ধে ডিপিএসের নামে গ্রাহকদের জমাকৃত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ মাস ধরে সমিতির অফিসটিও বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। বুধবার প্রতারিত গ্রাহকরা জোনাইল বাজারে প্রাপ্য টাকার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
১৯৯৮ সালে প্রাক্তন সৈনিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লক্ষীকোল বাজারের নামে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে জোনাইল বাজারে কার্যক্রম শুরু করে। শুরু থেকে তারা গ্রাহকদের সঞ্চয়ী হিসাব ও নিয়মবহির্ভূতভাবে ৭ বছরে দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে ডিপিএস চালু করেন। সমিতির মোট চারশ’ জন ডিপিএস গ্রাহকের লভ্যাংশসহ মোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৩৬০ টাকা জমা রয়েছে। কিন্তু অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে সমিতির ব্যাংক একাউন্টে মাত্র ২ হাজার টাকা এবং গ্রাহকদের মাঝে ঋণ দেয়া রয়েছে ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৬১ টাকা। এছাড়া ৪০ লাখ ৪৬ হাজার ৯০৬ টাকা সভাপতির কাছে রয়েছে বলে অডিট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৬৬ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৩ টাকার কোন হদিস মিলছে না। তবে ব্যাংকে রাখা ২ হাজার টাকা ছাড়া পুরো টাকা সমিতির পরিচালকরা আত্মসাত্ করেছেন বলে দাবি গ্রাহকদের। ডিপিএসের জমাকৃত টাকা ও লভ্যাংশ ফেরত না দিয়ে আত্মসাত্ করায় তাদের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক আব্দুস সালাম বলেন, আমানত, ডিপিএস ও লভ্যাংশসহ ২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা পাবো। কিন্তু এক বছর আগে ডিপিএসের মেয়াদ পূর্ণ হলেও টাকা দেয়নি সমিতির কর্মকর্তারা। সমিতির কোষাধ্যক্ষ মোবারক হোসেন জানান, সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যাংকের পরিবর্তে টাকা নিজের কাছে রাখেন। তারাই টাকাগুলো আত্মসাত্ করেছেন। সভাপতি হযরত আলী বলেন, কিছু টাকা গ্রাহকদের মাঝে ঋণ দেয়া আছে। বাকি টাকা সমিতির পরিচালকেরা বিভিন্ন সময় নিজেদের কাজে খরচ করেছেন, কিন্তু ফেরত দিচ্ছেন না। এজন্য গ্রাহকদের টাকা দিতে পারছি না। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, এ সমিতির ডিপিএস নেয়া এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ছাড়া কাউকে সদস্য করার অনুমতি নেই। তাছাড়া লক্ষীকোলের নামে অফিস নিয়ে জোনাইলে সে অফিস স্থানান্তর করে অনিয়ম করেছেন। বড়াইগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহিম হোসেন জানান, এ বিষয়ে একটি আবেদন পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
