এ কান্নার শেষ কোথায়

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১২, ২১:১৪
জীবকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবেই। এটাই অমোঘ সত্য। কিন্তু কিছু কিছু মৃত্যু কাঁদায়। বেঘোরে প্রাণ বিসর্জন কারো কাম্য নয়। আমাদের দেশে গার্মেন্টস কারখানায় আগুন লেগে গার্মেন্টস-শ্রমিকদের মৃত্যু নতুন নয়। এর আগে বহুবার ঘটেছে এমন ঘটনা। এবার ঢাকার আশুলিয়ায় নরসিংহপুরের নিশ্চিন্তপুরে তাজরিন পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১১১ জন শ্রমিকের অকাল মৃত্যু হয়েছে। এটি পোশাকশিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা। কেন এমন অগ্নিকাণ্ড? এ থেকে নিস্তারের কি কোনো উপায় নেই? এমন নির্মম ঘটনার স্বজনদের সান্ত্বনা দেয়ার কোনো ভাষা নেই। বৈদেশিক মুদ্রা আনয়নকারী পোশাকশিল্পে এভাবে আর কত প্রাণ বিসর্জন হবে? গার্মেন্টস কারখানার অগ্নিকাণ্ডে নিহত লাশের মিছিল আর কত প্রলম্বিত হবে? এ কান্নার শেষ কোথায়? পেটের দায়ে পরিবার-পরিজনের আহার জোটানোর জন্য আমাদের বস্ত্র-কন্যারা নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। জানের নিরাপত্তা তো আগে। তারপর কাজ। পোড়া মানুষের গন্ধে ভরপুর নিশ্চিন্তপুর। নিশ্চিন্তপুর এলাকায় স্বজন হারানোর বেদনায় শুধু বুকফাটা আর্তনাদ। শোকে পাথর স্বজন পরিবার। প্রাণসংহারী আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করেছে শতাধিক প্রাণ। এমন হূদয় বিদারক দৃশ্য আর কত দেখতে হবে কে জানে? দুর্ঘটনা ঘটলো। প্রাণসংহার হলো। তদন্ত কমিটি গঠন হলো। সবকিছুই হবে কিন্তু যারা গেলো তো গেলোই। তারা আর কখনো ফিরে আসবে না। সর্বাগ্রে প্রয়োজন গার্মেন্টসশিল্পে প্রাণের নিরাপত্তা বিধান। আশুলিয়া ট্রাজেডির যাতে আর পুনরাবৃত্তি না হয় সে ক্ষেত্রে এখনই ব্যবস্থা করতে হবে। আর কান্না নয়। আর প্রাণ বিনাশ নয়। এবার চাই পোশাকশিল্পে জানের নিরাপত্তা। নেত্রকোনা