নাব্যতা সংকটে দুধকুমার

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১২, ২১:২৫
নাব্যতা সংকটে দুধকুমার নদ গংগাধর ও ব্রহ্মপুত্রেরও একই অবস্থা। ফুলকুমার ও সংকোষ মৃত প্রায়। দু’পাশে জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ চর। অস্তিত্ব রক্ষায় গতিপথ সোজা করার পাশাপাশি ড্রেজিং এর মাধ্যমে এদের গভীরতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। জানা গেছে, ভারতের কুচবিহারে প্রবাহিত কালজানি নদী বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে ভুরুঙ্গামারী উপজেলার শিলকুড়ি ইউনিয়নের শালজোড় গ্রামে এসে সংকোষ নাম ধারণ করেছে। আরো দক্ষিণে এসে সোনাহাট ব্রিজের দক্ষিণে আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের বারৈইটারী মৌজার দক্ষিণে দুধকুমার নাম ধারণ করেছে। সেই নামে দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা, বেরুবাড়ী, বল্লভেরখাস ও কালীগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মিলিত হয়েছে। নাগেশ্বরী-ভুরুঙ্গামারীর উপর দিয়ে প্রবাহিত এ নদ অগভীর, খরস্রোতা ও আঁকাবাঁকা। শুকনো মৌসুমে শান্ত ও শীর্ণকায়। বর্ষায় অশান্ত। সে সময় প্রকৃতিতে ধ্বংসলীলা চালায়। প্রতিবছর এ নদে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন গ্রাম। বদলে যাচ্ছে বামনডাঙ্গা, বেরুবাড়ী, বল্লভেরখাস ও কালীগঞ্জ ইউনিয়নের মানচিত্র। ভাঙ্গনে নি:স্ব এ ইউনিয়নের মানুষগুলো দরিদ্র থেকে হচ্ছে অতি দরিদ্র। বর্ষার পর দু’পাশে বিস্তীর্ণ চর কাশবনে ভরে উঠে। এখন এই চরে পরীক্ষামূলক চাষাবাদ হচ্ছে। ফলাফল আশাপ্রদ। নানা কারণে ঐতিহ্য হারাচ্ছে দুধকুমার নদ। নতুন করে পলি জমে নাব্যতা আরও কমে যাচ্ছে। শুকনো মৌসুমে উভয় তীরে জেগে ওঠে বিস্তীর্ণ চর। মাঝে শীর্ণকায় দুধকুমার প্রবাহিত হয়। এটি রক্ষায় চর বারাইটারী, ধাউরারকুটি, বামনডাঙ্গা, বেরুবাড়ী নামক স্থানে লুব কাটিং করে এর গতিপথ সোজা এবং ড্রেজিং করে এর গভীরতা বাড়ানো দরকার। তা না হলে মৃত প্রায় সংকোষ ও ফুলকুমারের মতো ভাগ্যবরণ করতে হবে দুধকুমারকে। এক সময় হয়তো ইতিহাসখ্যাত এ নদকে খুঁজে ফিরবে মানুষ। ভারতের কুচবিহার জেলায় প্রবাহিত খুটামারী নদী ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নে প্রবেশ করে ফুলকুমার নাম ধারণ করে। দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে রায়গঞ্জ বাজারের উত্তর দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পূর্বে দুধকুমার নদে মিলিত হয়েছে। এর অপর একটি অংশের নাম গংগাধর। ফুলকুমার ও সংকোষ এক সময় স্রোতস্বীনি থাকলেও দীর্ঘ সময় পলি জমে তলানি ভেসে উঠে এখন মরা খাল। এক সময়ের খরস্রোতা এই নদ-নদী যে সকল ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত হতো সেখানে চালাতো তাদের তাণ্ডবলীলা। এই নদ-নদীর বুকে এখন চাষাবাদ হয়। গংগাধর এখনও বল্লভেরখাস ইউনিয়নের পূর্ব অংশে ব্রহ্মপুত্র নদের সাথে মিলিত হয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে। অন্য জায়গায় তা অপেক্ষাকৃত দুর্বল। লালমনিরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এনায়েত উল্ল্যাহ বলেন, দুধকুমার ও ধরলার নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ও ভাঙ্গন রোধে একটি প্রজেক্ট ইতিমধ্যে আমরা হাতে নিয়েছি। নকশা তৈরির কাজ প্রায় শেষ।