চরের জমিতে ফলছে সোনা

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১২, ২১:২৬
জামালপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের জেগে ওঠা গ্রাম নাওভাঙ্গা চরে এবার দেশীয় সিবি-১২ জাতের তুলার বাম্পার ফলনে চাষীরা মহাখুশি। তাদের চোখে এখন সোনালী জীবন গড়ার স্বপ্ন। উত্পাদিত তুলার ভালো দাম পেয়ে জামালপুর শহর ঘেঁষা নাওভাঙ্গা চরাঞ্চলের পরিত্যক্ত জমিতে তুলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। ব্রহ্মপুত্রের বুকে নাওভাঙ্গা চরাঞ্চলের বালি মাটিতে কয়েক বছর ধরে তুলা চাষ করা হচ্ছে। চাষীরা জানান- তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতা, ভাল বীজ সরবরাহ, পর্যাপ্ত সার, কৃষকের তত্ত্বাবধান, অনুকূল পরিবেশ ও রোগ বালাইয়ের আক্রমণ না থাকায় তুলার ফলন ভাল এবং দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা তুলা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। গত বছর এই এলাকায় তুলা চাষ হয় ৭০ হেক্টর জমিতে। আর এ বছর চাষ হয়েছে ১৭০ হেক্টরে। তুলা চাষী নুরুজ্জামান ও ভানু বেগম জানান- এ বছর তুলার আবাদ ভাল হলেও সার, ডিজেল, কীটনাশক আর শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ হওয়ার কারণে এবার উত্পাদন খরচ কিছুটা বেশি হয়েছে। এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে তুলা চাষ করতে কৃষকদের খরচ হয়েছে ৮/১০ হাজার টাকা। এ থেকে এবার ৩০/৩৫ হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়াও তুলা গাছ থেকে জ্বালানি, পাতা থেকে জৈব সার এবং বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়। এ থেকেও বাড়তি আয় হয় বিঘা প্রতি ২/৩ হাজার টাকা। বর্তমানে দেশে তুলার প্রচুর চাহিদা থাকায় তুলা উন্নয়ন বোর্ড ও বিভিন্ন মিল মালিক/ ক্রেতারা তুলা ক্ষেত থেকেই তুলা কিনে নিচ্ছেন বলে জানান কৃষকরা। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের এক হিসেব অনুযায়ী জানা যায়, দেশে প্রতিবছর ৪০ লাখ বেল তুলার চাহিদা রয়েছে। আমাদের দেশে উত্পাদন হয় মাত্র ৪০/৫০ হাজার বেল। দেশে তুলার উত্পাদন বৃদ্ধি করতে পারলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে । চাষীরা হবে আর্থিকভাবে লাভবান। চীন থেকে হাইব্রিড বীজ আমদানি না করে তুলা উন্নয়ন বোর্ড উদ্ভাবিত সিবি-১২ জাতের বীজ ব্যবহার করায় ফলন ভাল হয়েছে। দেশে উদ্ভাবিত স্বল্প মূল্যের বীজ পাওয়ায় এবং তুলার ন্যায্য দাম পেয়ে কৃষকরা অধিক লাভবান হচ্ছেন। হাইব্রিডের তুলনায় দেশীয় তুলা বীজের ফলনও বেশি। কিন্তু যথাযথ প্রচারণার অভাবে বিষয়টি অনেক চাষী জানতে পারছেন না এবং তুলা চাষেরও প্রসার ঘটছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বস্ত্রখাতের প্রধান কাঁচামাল তুলার সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। দেশীয় তুলার চাষ বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদেশ থেকে তুলার আমদানি কমানো যেতে পারে। এ জন্য সরকারের তত্ত্বাবধানে তুলা প্রক্রিয়াজাতকরণের জিনিং মেশিন স্থাপন করে কৃষকদের উত্পাদিত তুলা সরাসরি বাজারজাত করা গেলে কৃষকরা যেমন তুলা চাষে আগ্রহী হবেন, সেই সঙ্গে আর্থিকভাবেও যথেষ্ট লাভবান হবেন।