‘পাশ্চাত্যের ফটকা কারবারের দায় টানতে হচ্ছে দরিদ্রদের

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১২, ২১:৫৯
ভারত সরকারের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক অর্থমন্ত্রী ড. অশোক মিত্র বলেছেন, ইউরোপ ও আমেরিকা জুড়ে মন্দার অন্যতম কারণ ফটকা কারবার বিস্তার। উত্পাদনশীল খাতে মুনাফা কমে যাওয়ার ফলে এ দেশগুলোতে ফটকা কারবারের বিস্তার হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা অতি মুনাফার জন্য উত্পাদনশীল খাতে বিনিয়োগ না করে ফটকা কারবারে বিনিয়োগ করেছেন। পরে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া দেশগুলো এ দায় মেটাতে তাদের সামাজিক খাতে ব্যয় কমিয়ে ফেলছে। নাগরিক বিভিন্ন সুবিধা কমিয়েছে। এর ফলাফল পড়েছে দেশগুলোর ভুক্তভোগী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উপর। গতকাল শুক্রবার আগারগাঁয়ে এলজিইডি ভবনের বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে বক্তৃতার আয়োজন করে। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. অশোক মিত্র। ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী এ অর্থনীতিবিদ বক্তব্যের শুরুতেই তার জীবনের সাফল্যের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। বিশ্বায়ন এবং উন্নয়ন শীর্ষক লোক বক্তৃতায় সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত। ড. অশোক মিত্র উল্লেখ করেন, গত ৫০-এর দশকে অর্থনীতিবিদদের পর্যালোচনায় এদেশের অর্থনীতির যে পরিস্থিতি ফুটে উঠেছে তারই ভিত্তিতে বাংলাদেশ স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা পেয়েছে। তিনি বলেন, উত্পাদন মানেই উন্নয়ন নয়। যদি কোন দেশ ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে, আর সে দেশের বেকারত্ব হ্রাস না পায় তাহলে তাকে উন্নয়ন বলা যাবে না। পুষ্টিহীন উন্নয়নকে উন্নয়ন বলা যাবে না। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ৬০ বছর পার হয়ে গেলেও এখনও ভারত জুড়ে অর্ধেক লোক নিরক্ষর। এদের মধ্যে নারী নিরক্ষরের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। খুব কম রাজনৈতিক ব্যক্তি ভবিষ্যত্ নিয়ে চিন্তা করেন। তারা কীভাবে ক্ষমতায় বহাল থাকবে তাই চিন্তা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে ১২৫ থেকে ১৫০ বছর ধরে বিনিয়োগ হচ্ছে। সে দেশে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটেছে। প্রযুক্তির এত দ্রুত উন্নতি হয়েছে যে, প্রথাগত উন্নয়নের ধারণাই পাল্টে গেছে। উত্পাদন বাড়লেও সে দেশে মুনাফা বাড়ছে না। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যে মন্দা তা বিগত ৮০ বছরেও দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংক সুদের হার শূন্য থেকে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে ভারতে ব্যাংক সুদের হার ৭ থেকে ৮ শতাংশ। এসকল দেশের পুঁজি বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে বিনিয়োগ হলে তারাও লাভবান হতো বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইউরোপে উত্পাদন বাড়লেও কর্মসংস্থান বাড়ছে না। অশোক মিত্রকে অর্থনীতি সমিতির পক্ষ থেকে আজীবন সদস্যপদ এবং ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন, সিপিডি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর-ই-এলাহী। অধ্যাপক রেহমান সোবহান স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে ড. অশোক মিত্রের অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। শুরুতে ড. অশোক মিত্রের পরিচয় দিতে গিয়ে ড. আবুল বারকাত উল্লেখ করেন, ঢাকার আরমানিটোলায় জন্মগ্রহণকারী এ অর্থনীতিবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে স্নাতক পাস করার পর ১৯৪৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাঙ্গালোর বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৫০ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন।