অবরোধ, বিক্ষোভে উত্তাল আশুলিয়া

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১২, ২২:১৯
আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনেস শনিবার অগ্নিকাণ্ডে ১১১ জনের মৃত্যুর পর গত কয়দিনে পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত হয়ে এসেছিল। বৃহস্পতিবার কোন মিছিল-সমাবেশ ছিল না আশুলিয়ায়। শ্রমিকরা যে যার কারখানায় কাজ করেছেন। কিন্তু হঠাত্ করেই গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে মিছিল-সমাবেশে উত্তাল হয়ে ওঠে আশুলিয়া। তাজরীনের মালিককে গ্রেফতারের দাবি, ৪ মাসের বেতন ভাতা প্রদান এবং আহত-নিহত শ্রমিকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে রাস্তায় নামে শ্রমিকরা। গতকাল দুপুরে সড়ক দখল করে শ্রমিকদের মিছিল চলাকালে বাইপাইল-আব্দুল্লাপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ছুটির দিনেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। দুপুর ১২টার দিকে মিছিল শেষ হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে। প্রায় একঘণ্টা ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের সবাই দাবি করেন, তদের কর্মক্ষেত্রে পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে হবে। সমাবেশ শেষে বের হয় মিছিল। খণ্ড খণ্ড বিক্ষোভ মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে আশুলিয়া। সকাল থেকে শ্রমিকরা টঙ্গি-আশুলিয়া সড়কের আশুলিয়া, জিরাবো, জামগড়া নরসিংহপুর, ইউনিক ও বাইপাইল এলাকায় বিক্ষোভ করে সড়কে যানচলাচল বন্ধ করে দেয়। আগুনে পুড়ে যাওয়া তাজরীন ফ্যাশনসের শ্রমিকরা আজকের (শনিবার) মধ্যে বকেয়া ৪ মাসের বেতন প্রদানের দাবি জানিয়েছে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাজরীন ফ্যাশনসের মালিককে গ্রেফতার, হতাহতদের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, বেকার শ্রমিকদের অন্যত্র চাকরির ব্যবস্থা ও শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। তা না হলে লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। আশুলিয়ার বাইপাইল থেকে প্রায় ২ হাজার শ্রমিক মিছিল বের করে জামগড়া, নরসিংহপুর, জিরাবো হয়ে নিশ্চিন্তপুরে একটি কারখানার সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের বেতন-ভাতা দাবি করেন। তাজরীন ফ্যাশনসের আহত শ্রমিক রাজিব বলেন, দুর্ঘটনার সময় তিনি ৪ তলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বাঁচেন। তিনি বলেনঃ ‘আমার মাথায় ৮টি সেলাই দেয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন মহল ও রাজনৈতিক নেতারা সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোন সহযোগিতা করা হয়নি আমাদের।’ মালিককে বাঁচাতে সরকারসহ সব মহল তত্পরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অপর শ্রমিক মরিয়ম বলেনঃ ‘কারখানার সামনে নোটিশ টানানো হয়েছে ১ তারিখে আমাদের বেতন দেয়া হবে। কিন্তু আমরা শ্রম আইন অনুযায়ী ন্যায্য বেতন চাই। শুধু এক মাসের বেতন দিলে হবে না, আমাদের ৪ মাসের বেতন দিতে হবে।’ গতকাল বিকালে কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন। ইউনিয়নের নেতারা বার বার বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় আগুন লাগার কারণ চি?িহ্নত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবি জানান। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগঃ তাজরীনের আগুনে মারা গেছে অন্তত পাঁচ শতাধিক। কিন্তু সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে ১১১ জন। এখনো তাদের অনেক সহকর্মী নিখোঁজ রয়েছে দাবি করে সরকারের কাছে শ্রমিকরা লাশ উদ্ধারের দাবি জানান। গতকাল সন্ধ্যায় সাভারের পলাশবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক সম্মেলন। গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র সাভার ও আশুলিয়া শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আলি রেজা চৌধুরী তুহিন। সম্মেলন উদ্বোধন করেন কমরেড জসিমউদ্দিন মণ্ডল। বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী শেখ মোঃ শহিদুল্লাহ, শহিদুল্লাহ চৌধুরী, এডভোকেট মন্টু ঘোষ, ইদ্রিস আলী, খায়রুল মামুন মিন্টু, জলিল তালুকদারসহ শ্রমিক নেতারা। বক্তারা বলেন, শ্রমিকরা দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও আজ তারা অবহেলিত। শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই দেশের উন্নয়নের গতি সচল রাখার স্বার্থে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানান বক্তারা। সভায় শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, কারখানাভিত্তিক রেশন, শ্রমিক কলোনি তুলে বাসস্থানের ব্যবস্থা, মহার্ঘ ভাতা প্রদান করে ন্যায্য মজুরি, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকারসহ দশ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সম্মেলন শেষে গণসংগীত পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যরা।